web stats মেয়র আনিসুলের জন্য শোকগাঁথা

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭

মেয়র আনিসুলের জন্য শোকগাঁথা

দুই বছরের দায়িত্বে থাকার সময় নগরবাসীকে ‘পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নিরাপদ’ ঢাকা গড়ার স্বপ্ন দেখাতে পেরেছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তার মৃত্যুর পর ফেসবুকের প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছে, তার ওপর কতটা ভরসা করেছিলেন সাধারণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার রাতে মেয়রের মৃত্যুর খবর আসার পর থেকে বহু মানুষের ফেসবুক পেজের প্রোফাইল বদলে গেছে। কেউ আনিসুল হকের ছবি দিয়েছেন, কেউবা কালো জমিনে সারা ফন্টে লিখে মেয়রকে স্মরণ করছেন। সুন্দর বাসযোগ্য নগরী গড়তে মেয়র যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তা থেমে যাবে কি না, সেই আশঙ্কাও করছেন অনেকেই। মেয়রের কাজগুলোও তুলে ধরছেন তার অনুসারীরা।

নগরবাসী চাইছে যে কাজগুলো মেয়র শুরু করতে পারেননি বা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি, সেগুলো যেন গুরুত্ব দিয়ে করা হয়।

মেয়রের দেখানো আধুনিক ঢাকার স্বপ্নে মিশে যাওয়া মানুষগুলোর একজন মধুবাগের বাসিন্দা শাহ আলম। অনেকটা আবেগ নিয়েই তিনি বলেন, ‘দুঃসংবাদটা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লাম। এরকম সচেতন ও পাংচুয়্যাল একজন মানুষ চলে গেলেন। বয়সে তিনি প্রায় আমার মতোই, কিন্তু মেয়র হিসেবে তার কাছ আমকে মুগ্ধ করেছে। এমন মেয়র আর পাবো কি না জানি না। যটুকুই করতে পেরেছেন, কাজ করেছেন বলতে হবে।’

আল ফারুক শুভ নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এই মুমূর্ষু শহরটার বেঁচে থাকা নিয়ে শেষ যে আশাটুকু ছিল, সেটুকুও আর রইলো না।’

ফারজানা লিজা লিখেছেন, ‘মানুষ সংঘবদ্ধ হলে পৃথিবী বদলে দিতে পারে। খুব প্রয়োজনীয় মানুষগুলোই খুব জলদি পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। আসলেই বড্ড নিষ্ঠুর এ পৃথিবী, তাই হয়ত কথায় বলে, ভালো মানুষ বেশি দিন বাঁচে না!’

মহিউদ্দিন আহমেদ সৈকত লিখেছেন, ‘আপনি সেই মানুষ যিনি এমন জীবন রচনা করেছিলেন, আপনার বিদায়ে হাসছেন আপনি আর কাঁদছি আমরা সবাই। ওপারে ভাল থাকুন।’

মাহমুদুল ইসলাম লিখেছেন, ‘প্রিয় মেয়র, অনেক পাওয়া না পাওয়ার হিসাব বাকি রেখেই চলে গেলেন। আপনাকে ঘিরে ছিল ভবিষ্যত ঢাকার স্বপ্ন। মৃত্যু আসবেই। এতে কারো কোন হাত নেই। তবে এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। বড় অসময়ে চলে গেলেন। আপনি ভালো থাকুন।’

সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মেয়র মহোদয়ের কাজের স্পৃহা আমাদের আরও কাজ করতে উৎসাহিত করত। ঘুমুতে যাওয়ার আগে ওনার ম্যাসেজ, ঘুম থেকে ওঠে ওনার ম্যাসেজে থাকতো কী কাজ করতে হবে।’

২০১৫ সালের এপ্রিলে ঢাকার উত্তর অংশের মেয়র নির্বাচিত হন আনিসুল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থনে নিজের নির্বাচনী ইশতেহারে নগরবাসীকে ‘পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নিরাপদ’ নগরী উপহার দেয়ার স্বপ্ন দেখান। মেয়রে পদ গ্রহণের পর তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সমস্যা সময় সাপেক্ষ সমাধানে কাজও শুরু করেন।

জীর্ণ ঢাকাকে বিভিন্ন পরিকল্পনায় এনে সাজাতে শুরু করলেন। দুঃসাহসিক যাত্রা শুরু করলেন অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে।

সড়ক দখলমুক্ত করা

মেয়র আনিসুল বছরের পর বছর ধরে অবৈধ দখলদারদের হাতে থাকা তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালের সামনের রাস্তা মুক্ত করে জনগণকে উপহার দিয়েছেন মুক্ত পথ।

বছরের পর বছর এই ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনের সড়কটি অবৈধভাবে দখলে থাকায় ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যান মেয়র।

অভিযানে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং ট্রাক শ্রমিকরা বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়ন অফিসে মেয়রকে অবরুদ্ধ করে রাখে। কিন্তু মেয়র তার জায়গায় অনড় থেকে বিষয়টির সমাধান করেন এবং বিকাল প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ইউনিয়ন অফিস থেকে বের হয়ে ট্রাক রাখার জন্য আলাদা ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দখলে থাকা সড়কটি মুক্ত করেন।

একইভাবে গাবতলীর চওড়া সড়কে জেঁকে বসা অবৈধ বাসস্ট্যান্ড ও অন্যান্য স্থাপনা সাফল্যের সঙ্গে উচ্ছেদ করেছেন আনিসুল হক।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

স্বাধীনতাবিরোধী নেতা মোনায়েম খানের বংশধররা ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি জমি দখল করে রেখেছিলেন। মেয়রের সাহসী সিদ্ধান্তে বনানী কবরস্থান সংলগ্ন সেই জমি দখলমুক্ত করে চওড়া করা হয়েছে সড়ক। এতে ওই এলাকার যানজটের ভোগান্তি কমেছে।

এ ছাড়া গুলশান, বনানী, মিরপুর, তেজগাঁওয়ের বহু এলাকা অবৈধ দখল থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে মেয়রের ব্যক্তিগত উদ্যোগে। অতীতে বহুবার দেখা গেছে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের পর সেগুলো আবার দখল হতে। কিন্তু এবার সেটি হয়নি বহুলাংশে।

দূতাবাসের ফুটপাত দখলমুক্ত

বাংলাদেশে বিদেশি দূতাবাসগুলো তাদের স্থাপনার সামনের ফুটপাতগুলো অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল বছরের পর বছর। জনগণের হাঁটার পথ উন্মুক্ত করতে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইতালি দূতাবাসকে চিঠি দেয় ডিএনসিসি। এসব দূতাবাসকে ১ মার্চ থেকে এক মাসের মধ্যে ফুটপাতের দখল ছাড়তে বলা হয়।

এর পর একাধিকবার আলোচনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে বিদেশি দূতাবাসগুলোর অবৈধ দখলে থাক ফুটপাতে জনগণের চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে আনেন মেয়র আনিসুল। বেশ কিছু দূতাবাসের সামনের স্থাপনা তার উপস্থিতিতেই গুঁড়িয়ে দেয় সিটি করপোরেশন। তার এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেন নগরবাসী।

সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন

ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্তকরণ এবং আধুনিকায়নের কাজ হাতে নেয়া এবং বিভিন্ন সড়ক চওড়া করার কাজ মেয়র আনিসুলের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত। একই সাথে দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা দূর করতে নতুন ড্রেন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের কাজ এখনও চলছে নগরজুড়ে।

নগরবাসীর নিরাপত্তায় উদ্যোগ

নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকার প্রতিটি হোল্ডিংকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার চলমান উদ্যোগ নেন মেয়র আনিসুল। একই সাথে উজ্জ্বল নগরী তৈরিতে ১৮ হাজার ৬৮৭টি এলইডি বাতি বসানোর পরিকল্পনা।

পরিচ্ছন্ন নগর

পরিচ্ছন্ন নগরী নিশ্চিত করতে ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে ৭২টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ ও হাজার খানেক নতুন ডাস্টবিন বসানোর উদ্যোগ ছিল মেয়র আনিসুলের। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ১১টি বিশ্বমানের শৌচাগারও নির্মাণ করা হয়। ২২ হাজার বিলবোর্ড অপসারণের পাশাপাশি এবং দেয়াল লিখন ও পোস্টার সাঁটানো বন্ধ করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন মেয়র।

সবুজ ঢাকা

সবুজ ঢাকা গড়তে বিভিন্ন স্কুল, কলেজে সবুজায়নের ক্যাম্পেইনের আয়োজন। এতে বিভিন্ন সেবমূলক সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে তাদের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করেন। গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করতে বাড়ির মালিকদের হোল্ডিং ট্যাক্সে ছাড় দেয়া হয়।

যানজট নিয়ন্ত্রণে ইউটার্ন

মেয়রের এই উদ্যোগটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। তবে তার ঘোষণা অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে।

উত্তরা থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত ডিএনসিসির অধীনে সড়কে ১১টি ইউটার্ন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে নভেম্বররের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে। এই প্রকল্প শেষ হলে এই সড়কে নিত্যদিনের যানজটের অবসানের আশা করা হচ্ছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কোনো মোড়ে আর গাড়িকে সিগন্যালে আটকে থাকতে হবে না। ডান দিকে যেসব গাড়ি যাবে, সেগুলো সামান্য এগিয়ে গিয়ে ইউটার্ন দিয়ে ঘুরে গন্তব্যে আসবে।

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ

নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে মেয়র আনিসুলের উদ্যোগ ছিল শুরু থেকেই। অসম্ভব জটিল এই কাজটি করতে তিনি বারবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং গণপরিবহনের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ছাড় দিয়ে একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করতে একমত হয়েছেন।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন রুটে চলা বাসগুলোকে কয়েকটি কোম্পানির অধীনে এনে চালানো হবে। তারা দিন শেষে লাভ ভাগাভাগি করে নেবে। এতে করে যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রীর জন্য হাঁকডাক করবে না, দাঁড়িয়ে থেকে যানজট বাধাবে না।

এই ব্যবস্থায় চলা বাসগুলোও হবে উন্নততর। পুরনো সব বাস বদলে ফেলে নতুন বাস চালুর জন্য মালিকদের বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেয়ার বিষয়ে অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে।

নাতির জন্ম উপলক্ষে গত ২৯ জুলাই সপরিবারে লন্ডনে যান মেয়র আনিসুল হক। ১৪ আগস্ট দেশে ফেরার কথা থাকলেও আগেরদিন রাতে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অধিনেই পরীক্ষা চলার সময় জ্ঞান হারান। এ সময় চিকিৎসকরা তার মস্তিস্কের রক্তনালীতে প্রদাহজনিত (সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস) হয়েছে বলে জানান এবং সেখানেই তার দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা চলতে থাকে।

তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে গত ৩১ অক্টোবর তাকে আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশনে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমান্বয়ে আবারো অবনতি হতে থাকে। এ সময়টাতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মেয়রের মৃত্যু সংবাদ প্রচারিত হয়। এদিকে মেয়রের পরিবারের পক্ষ থেকে বরাবারই এ ধরণের খবরকে অপপ্রচার দাবি করা হয়েছে।

কিন্তু সব প্রশ্নকে পিছনে ফেলে ৩০ নভেম্বর লন্ডন সময় ৪টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওই হাসপাতালেই মারা যান তিনি।

আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টা ২০মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আনিসুল হকের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ওই দিনই বাদ আসর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

কর্মজীবন

১৯৫২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীতে জন্ম আনিসুলের। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক পাস করেন তিনি। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৮৬ সালে তিনি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদী গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠা করেন।

এই গ্রুপের অধীনে তার পোশাক কারখানা থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, দুটি আইটি কোম্পানি, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং একটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও ‘নাগরিক’ টেলিভিশন নামে একটি টেলিভিশন চ্যানেল আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বেও পটু ছিলেন ৯০ এর দশকের জনপ্রিয় এই টিভি ব্যক্তিত্ব। ২০০৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি ছিলেন আনিসুল হক।

পরে ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন আনিসুল। ২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত এই সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজেরও প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com