web stats ‘ভিক্ষা যদি করতেই হয়, ঘোড়ায় চড়েই করব।’ রাজশাহীতে ঘোড়ায় চড়ে ভিক্ষা!

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

‘ভিক্ষা যদি করতেই হয়, ঘোড়ায় চড়েই করব।’ রাজশাহীতে ঘোড়ায় চড়ে ভিক্ষা!

‘ভিক্ষা যদি করতেই হয়, ঘোড়ায় চড়েই করব।’ এমন একটি প্রবাদ সত্য প্রমাণ করেছেন রাজশাহীর পিয়ার বক্স। তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করেন ঘোড়ায় চড়ে। দুই পা ছাড়াই ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়ান শহর থেকে গ্রাম। রোজগারও ভালো। ঘোড়া আর সংসার মিলে ভালোই আছেন শখের এ মানুষটি।

রাজশাহী মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার পাশের এক বস্তিতে থাকেন পিয়ার বক্স। গত বুধবার দুপুরে নগরীর উপশহর নিউমার্কেটের সামনে ঘোড়ায় চড়ে ভিক্ষাবৃত্তি করতে দেখা গেল তাকে। তিনি জানালেন, ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি ঘোড়ায় চড়ে ভিক্ষা করেন। স্ত্রীকে নিয়ে ভালোই চলে তার সংসার।

পিয়ার বক্সের গ্রামের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়িতে। ১৯৭৪ সালে তিনি টগবগে যুবক। কিছুদিন আগেই বিয়ে করেছেন। জীবনের স্বপ্ন সাজাতে নিজের নতুন বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু সে সময় ঘটে এক দুর্ঘটনা। এতে দুটি পা হারাতে হয় তাকে। তার সব স্বপ্ন নিমিশেই নিঃশেষ হয়ে যায়।

তারপর জীবিকার খোঁজে স্ত্রীকে নিয়ে পিয়ার বক্স চলে আসেন রাজশাহী শহরে। অনেক খুঁজেও সে সময় কোনো কাজ পাননি শুধু দুটি পা না থাকার কারণে। তাই শুরু করেন ভিক্ষাবৃত্তি। কিন্তু দুই পা না থাকায় ভিক্ষা করতে এলাকা ঘুরতেও তার সমস্যা হয়।

তাই অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে পিয়ার বক্স কেনেন এই ঘোড়া। তারপর থেকে চলছেই। প্রতিদিন সকালে ঘোড়ায় চড়ে ভিক্ষা করতে বের হন। দুই পা না থাকলেও সাবলীলভাবেই ঘোড়ার পিঠে বসে থাকেন তিনি। লাগাম ধরে ঘোড়ার নিয়ন্ত্রণও থাকে নিজের হাতে। ভিক্ষাবৃত্তি শেষে সন্ধ্যায় ফেরেন ঘরে।

পিয়ার জানালেন, তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। সন্তানেরা বিয়ে করে যে যার মতো সংসার করছে। এখন স্ত্রী আর ঘোড়াটা নিয়েই তার সংসার। সকালে তাকে তার স্ত্রী ঘোড়ার পিঠে তুলে দেন। ঘোড়ার পিঠে সাজিয়ে দেন ভিক্ষার ঝুলিও। এরপর সারাদিন ঘোড়ার পিঠেই ঘুরে বেড়ান পিয়ার। শহর ছেড়ে চলে যান গ্রামেও। সারাদিন ঘুরে যা জোটে তা নিয়ে সন্ধ্যায় ফেরেন বাড়িতে।

পিয়ার বলছিলেন, দিন যতো যাচ্ছে তার আয় ততো কমেছে। সারাদিন ঘুরে এখন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। দুই-চার কেজি করে ধান-চালও মেলে। সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে আগে ঘোড়ার খাবার, তারপর নিজেদের। ঘোড়ার পেছনেই তার আয়ের এক তৃতীয়াংশ ব্যয় করতে হয়।

তারপরেও খুশি পিয়ার বক্স। বললেন, এখন ঘোড়াটাই তার সন্তান। শেষ বয়সে বাবা-মা যেমন সন্তানদের অবলম্বন ভাবে, ঘোড়াটাও তার কাছে তাই। ঘোড়াটা আছে বলেই ঘরে চুলো জ্বলছে তার।

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com