web stats ফাঁসির মঞ্চে উঠার সময় যার গান শুনতো আসামী

সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ফাঁসির মঞ্চে উঠার সময় যার গান শুনতো আসামী

‘এই পৃথিবী যেমন আছে তেমনি ঠিক রবে/সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে’- এ গানের কথাগুলোর মতোই প্রতিটা প্রাণের জীবন; একদিন চলে যেতে হবে, এটাই কঠিন নিয়তি। জন্ম নিলে তার শেষ পরিণতি অবধারিত। মৃত্যুই হচ্ছে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। তবুও মায়া থেকে যায়; মানুষের প্রতি মানুষের মায়া, পৃথিবীর প্রতি মায়া, সম্পর্কের মায়া, আরো না জানি কতকিছুর মায়া ত্যাগ করে চলে যাওয়া সহজ হয়ে উঠে না তাই।

একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে, এ সত্যটা জানার পরেও বুকের কোথায় যেন হাহাকার জমে থাকে, প্রিয় মানুষের চলে যাওয়া তাই মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ যেদিন ‘মৃত্যু’ শব্দটার সঙ্গে প্রত্যেকের পরিচয় ঘটে, আমরা জেনে যাই- এটাই চিরন্তন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, এর ব্যতিক্রম নেই, হবেও না কোনোদিন। কিন্তু ঐ যে মায়া, পৃথিবীতে মানুষ আসেই মায়ার বন্ধনে জড়াতে, তারপর একদিন হুট করেই চলে যেতে হয়, রেখে যেতে হয় সকল কর্ম, সৃষ্টি, সব সম্পর্ক, আনন্দ-বেদনার অনুভূতি। উপরে প্রদত্ত গানের লাইন দুটি প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার বিজয় সরকারের লেখা। আর এ গানটিতে কণ্ঠের জাদু দিয়ে জনপ্রিয় করে তুলেছেন গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ঘরানার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বংশী বাদক বারী সিদ্দিকী। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যিনি আজ প্রতিটা প্রহর কাটাচ্ছেন বেসরকারী হাসপাতাল স্কয়ারের শুভ্র বিছানায়। গত তিন দিন যাবৎ এ হাসপাতালেই লাইফ সাপোর্টে আছেন গুণী এই শিল্পী, এখনো তার অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি।

গতকাল সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হঠাৎই তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে শঙ্কিত হয়ে পড়েন তার অগণিত ভক্ত-অনুরাগী-শুভাকাঙ্ক্ষী এবং প্রিয়জনরা। মনেপ্রাণে সবাই শুধু একটাই প্রার্থনা করছেন; ফিরে আসুন বারী সিদ্দিকী, আবারও দরাজ কণ্ঠে দরদ দিয়ে গেয়ে উঠুন সেই চিরচেনা গানগুলো। প্রিয়.কম এর আজকের আয়োজন বারী সিদ্দিকীর দশটি জনপ্রিয় গান নিয়ে। পাঠক এ গানগুলোর মাধ্যমে বারী সিদ্দিকীকে স্মরণ করুক, প্রাণ ভরে প্রার্থনা করুক তার ফিরে আসার। তার আগে জেনে নেওয়া যাক, বারী সিদ্দিকী সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু তথ্য-

প্রখ্যাত এ সংগীতশিল্পীর জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোণায়। জন্মেছিলেন এক সংগীত প্রাণ পরিবারে, ফলে শৈশব থেকেই গানের শিক্ষা পেয়েছেন পরিবারের সদস্যদের হাতে ধরেই। তবে সংগীতে আনুষ্ঠানিক হাতেখড়ি হয় বারো বছর বয়সে। নেত্রকোণার খ্যাতিমান শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের কাছে তার প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক সংগীত শিক্ষার শুরু। এরপর তিনি একে একে সান্নিধ্য পান ওস্তাদ দবির খান, আমিনুর রহমান, পান্নালাল ঘোষসহ আরো অনেকেরই।

ক্লাসিক্যাল সংগীতে তার আগ্রহ খুব ছোট থেকেই, ওস্তাদ গোপাল দত্তের পরামর্শে তাই ক্লাসিক্যাল মিউজিকে পড়াশোনা শুরু করেন বারী সিদ্দিকী। একটা সময় ঝোঁক বাড়ে বাঁশির প্রতি, ফলে বাঁশির উপর উচ্চাঙ্গসংগীতে তালিমও নিয়ে নেন তিনি। শুধু দেশে নয়, সংগীতে উচ্চতর তালিম গ্রহণের জন্য নব্বই দশকে তিনি ভারতবর্ষে পাড়ি জমান। ভারতের পুনে শহরে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে শিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে মনোযোগি হয়ে উঠেন লোকসংগীতে, পাশাপাশি চলতে থাকে ক্লাসিক ঘরানার গানও।

চলুন শুনে নেওয়া যাক বারী সিদ্দিকীর জনপ্রিয় কিছু গান-

কোনোদিন স্বপ্ন দেখেননি এত বড় শিল্পী হবেন, ভাবনাতেও ছিল না কখনো, তবু কোটি মানুষের হৃদয় জয় করে তিনি আজকের বারী সিদ্দিকী। এত ভালোবাসা পেয়েও তার আফসোস থেকে গেছে, বেড়েছে স্পৃহা, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বারবার তিনি বলেছেন- ‘আমার হয়তো আরো শিখে গান গাওয়া উচিত ছিল, ভারতবর্ষে গিয়েছিলাম সংগীতের দীক্ষা নিতে, আরো কিছুদিন সেখানে থেকে আসা প্রয়োজন ছিল বোধহয়’। উকিল মুন্সির বিখ্যাত এ গানটি বারী সিদ্দিকীর মাধ্যমেই অধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছে- ‘শুয়া চান পাখি আমার, শুয়া চান পাখি/আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি/ তুমি আমি জনম ভরা ছিলাম মাখামাখি/আজি কেন হইলে নীরব মেল দুটি আঁখি রে পাখি/আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি’।-প্রিয়.কম

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com