web stats এখন যেভাবে ১০৭ টি গরুর মালিক, ৩০ টাকার মুরগি দিয়ে শুরু করে!!

শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

এখন যেভাবে ১০৭ টি গরুর মালিক, ৩০ টাকার মুরগি দিয়ে শুরু করে!!

৩০ টাকার মুরগি দিয়ে শুরু- একটি-দুটি খামার থেকে ক্রমেই ‘দুধের অঞ্চল’ হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা। উপজেলার ১১ ইউনিয়নে উৎপাদিত দুধেই গোটা বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দৈনন্দিন চাহিদার বড় অংশের জোগান দেওয়া হয়।

এ উপজেলায় গড়ে উঠছে ছোট-বড় ৫০০ খামার। স্থানীয় পরিশ্রমী খামারিদের একজন নাজিম উদ্দিন হায়দার। নিজ গ্রাম চরলাক্ষ্যায় ১৯৯১ সালে একটি মাত্র মুরগি দিয়ে পোলট্রি শুরু করে এখন গরুর খামারের মালিক।

নিজের সফলার অভিজ্ঞতা দিয়ে সহযোগিতা করছেন অন্য খামারিদের। দক্ষিণ চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার এবং বান্দরবানের খামারিদের কাছে তিনি এখন আদর্শ।

স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়নের (মিল্ক্ক ভিটা) পরিচালক নিযুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার নিজের খামারের পাশে বসে আশা-হতাশার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নাজিম উদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, ‘প্রথমে ৩০ টাকায় একটি মুরগি কেনেন।

চার মাস পর বাচ্চাসহ মুরগি বিক্রি করেন ৪০০ টাকায়। এই ৪০০ টাকার সঙ্গে তার নানির কাছ থেকে ১০০ টাকা ধার নিয়ে একটি ছাগল কেনেন। এক বছরের কিছু বেশি সময় পর ছাগলটি বাচ্চা দেয়।

কিছু দিন পর বাচ্চাসহ তিন হাজার ৩০০ টাকায় ছাগলটি বিক্রি করেন। এ টাকায় দেশি জাতের গরু কেনেন নাজিম উদ্দিন। ২০০৭ সালে ৪৪ হাজার টাকা দামে একটি উন্নতজাতের গরু দিয়ে ডেইরি ব্যবসা শুরু করেন। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার।

নাজিম উদ্দিন জানালেন, ধীরে ধীরে গাভী বেড়েছে, দুধের উৎপাদন বেড়েছে। এখন গরুর সংখ্যা ১০৭টি খামার থেকে প্রতিদিন ৫০০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়া ৩০টি পরিবারের গৃহস্থালির জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উৎপাদন হচ্ছে মূল্যবান জৈব সার।

নাজিম উদ্দিনের দেখাদেখি এলাকার অনেকে দুগ্ধ খামার গড়ে তুলেছেন। কর্ণফুলী উপজেলার চরলাক্ষ্যা, চর পাথরঘাটা, বড় উঠান এবং শিকলবাহায় অসংখ্যা দুগ্ধ খামার গড়ে উঠেছে। নাজিম উদ্দিন প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে খামারিদের সহায়তা করেন।

অনেক সময় দুধ বিক্রি নিয়ে বিভিন্ন হয়রানির মুখে পড়েন খামারিরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম, যানবাহন সংকট, হরতাল, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে দুধ বাজারজাত করা সম্ভব হয় না।

পচনশীল হওয়ায় রেখে দেওয়া যায় না। এ অবস্থায় উৎপাদন খরচের অনেক কমে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হতেন তারা। এ সমস্যার সমাধানে খামারিদের সুবিধা-অসুবিধা দেখভালের জন্য একটি সমবায় গড়ে তোলেন নাজিম উদ্দিন।

২০০৮ সালে এ রকম দর পড়ে যাওয়ায় রাস্তায় দুধ ঢেলে প্রতিবাদ জানায় সমিতি। স্থানীয় এমপি ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে স্মারকলিপি দেওয়া হয় সমিতির পক্ষ থেকে।

তার সহযোগিতায় ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ দুধ শীতলীকরণ কারখানা। এ কারখানা চালু হলে স্থানীয় খামারের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে মনে করেন নাজিম উদ্দিন।

এখন অনেক শিক্ষিত তরুণ তার সঙ্গে খামার করার বিষয়ে পরামর্শ নিতে আসেন। সারাদেশের দুধের চাহিদা পূরণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন তারা।

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com