web stats শিশু সন্তানকে যে ধরণের কোন কথা কখনোই বলা উচিৎ নয়

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

শিশু সন্তানকে যে ধরণের কোন কথা কখনোই বলা উচিৎ নয়

পৃথিবীতে জন্ম নেওয়ার পর দুইজন মানুষের অকৃত্রিক ও পরম ভালোবাসা, স্নেহ, মমতার ভেতর দিয়ে প্রতিটা মানুষ বেড়ে ওঠে। সেই দুইজন মানুষ হলেন মা এবং বাবা। আজকের দিনে এসে প্রত্যকটি মানুষ যেভাবে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করছে, তার পেছনে রয়েছে তাদের অপরিসীম অবদান। এই সহজ এবং ধ্রুব সত্য কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই একেবারেই। জীবনে চলার পথে প্রতিটি ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনার জন্য, সাহায্য এবং সম্মতির জন্য মা এবং বাবা সবসময় তাদের সন্তানদের পাশে থাকেন ছায়ার মতো। অবশ্যই ভুল করলে শাসন করেন। তবে কখনোই সন্তানদের মাথার উপর থেকে নির্ভরতার হাত সরিয়ে নেন না তাঁরা।

সন্তান হিসেবে সময় সময়ে অনেকে মা-বাবাকে সাধারণ মানুষ এর চাইতেও বেশী কিছু মনে করেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, তারাও আমাদের মতো সাধারণ মানুষ। আমাদের যেমন ভুল হয়, ঠিক সেভাবে তারাও ভুল করেন। মা-বাবা যে কাজই করেন না করেন, সেটা তাদের সন্তানদের জীবনের উপরে অনেক বড় ধরণের প্রভাব ফেলে দেয়। কারণ, প্রতিটি সন্তান তার মা-বাবা’র প্রতিটি কাজ থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। এক্ষেত্রে যখন তাঁরা ভুল কোন কিছু করেন, সেটার নেতিবাচক প্রভাব অনেক বিশাল আকারে তাদের সন্তানদের ওপর পড়ে। বিশেষ করে, তাঁরা রেগে গিয়ে যখন শিশু সন্তানদের শাসন করেন, তখন তাঁরা বেশীরভাগ সময়ে ভুল আচরণ প্রকাশ করে ফেলেন, ভুল কথা বলে ফেলেন। তাঁরা হয়তো বুঝতেও পারেন না যে, তাঁরা নিজেদের অজান্তেই তাদের সন্তানদের মানসিকতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দিচ্ছেন!

প্রতিটি সন্তানকে শাসন করার প্রয়োজন রয়েছে। তবে শাসন করার সময়ে এমন কোন কথা বলা একেবারেই উচিৎ নয়, যেটা একজন শিশুর মনের উপরে চিরস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়। জেনে নিন কোন কথাগুলো কোন মা-বাবা’রই তাদের সন্তানকে শাসন করার সময়ে অথবা রেগে গিয়ে বলা উচিৎ নয়।

“এই মুহূর্তে কান্না বন্ধ করো”
বাচ্চা হয়তো একেবারেই অকারণে কান্নাকাটি করছে এবং কোনভাবেই তার কান্নাকাটি বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবুও তাকে কখনোই এই কথাটি বলা যাবে না। বিশেষ করে কঠিন স্বরে একেবারেই নয়। কারণ, একজন শিশু তার অনুভূতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে জানে না। তাকে বারবার এই কথা বলে ধমক দিলে বা ভয় দেখালে সে হয়তো কিছু সময় পরে কান্নাকাটি বন্ধ করে ফেলবে। কিন্তু, তার মনের মাঝে একটি নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে। যার ফলে সে তার আবেগ অনুভূতিকে লুকানো শুরু করবে।
তাই উক্ত কথা বলার পরিবর্তে তাকে বলা যেতে পারে- ‘কান্নাকাটি করছ সমস্যা নেই। কিন্তু আমাকেও বল কেনো কান্নাকাটি করছ। তোমার জন্য কী করতে পারি?’

“তোমার উপরে আমি খুবই অসন্তুষ্ট”
মা-বাবারা তাদের সন্তানদের এই কথাটি বলেন তখনই, যখন তাঁরা নিজেরা কোন ধরণের অস্বস্থিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। অথবা তাদের সন্তান এমন কোন কাজ করে ফেলছে, যেটা তাদেরকে অন্যদের সামনে অপ্রস্তুত করে দিয়েছে। সন্তান কোন ভুল কাজ করে ফেললে তাকে বোঝাতে হবে। তাকে বলতে হবে- ‘তুমি যে কাজটি করেছ সেটা ঠিক নয়। এটা নিয়ে আমরা পরে কথা বলব।’

“তুমি একেবারেই অপদার্থ”
এমন কিছু কথা রয়েছে, যেটা একজন সন্তানকে তার মা-বাবা’র কখনোই, কোন অবস্থাতেই বলা উচিৎ নয়। সেই কথাটি হলো- তুমি একেবারেই অপদার্থ! প্রতিটা সন্তান তার মা-বাবার কাছ থেকে ভালো কিছু শুনতে চায়। তাদের সম্মতি চায়। তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করে থাকে। একইসাথে প্রতিটি সন্তান মনের মাঝে একটি গোপন আশঙ্কা লুকিয়ে রাখে- তার মা-বাবা’র কাছে সে কেমন মানুষ! তাই যখন মা-বাবা’র কাছ থেকে কোন সন্তান এমন ধরণের কথা শোনে, তখন তারা মানসিকভাবে একেবারেই ভেঙ্গে পরে। সন্তান ব্যর্থ হলে, ভুল করলে তাকে অনুপ্রাণিত করতে হবে। সাহস দিতে হবে। তাকে বলতে হবে- ‘কেউই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই তোমাকে আরও চেষ্টা করতে হবে। এরপরে নিশ্চয় সবকিছু ঠিক করে করতে পারবে।’
“তুমি খুব খারাপ/ দুষ্টু বাচ্চা”

পূর্ববর্তি কথাটির মতো এটাও এমন একটি কথা, যেটা কখনোই কোন শিশুকে বলা উচিৎ নয়। বলা যেতে পারে, এই কথাটি অনেকটা ‘রেড অ্যালার্ট’ মতো নিষিদ্ধ! শিশুরা চঞ্চল হবে, দুষ্টামি করবে। কারণ তাদের বয়সটাই তো এমন। কিন্তু সেটার জের ধরে তাকে কোনভাবেই এমন কথা শোনানো যাবে না, যে কথার দ্বারা তাকে হেয় প্রতিপন্য করা হয়। শিশু সন্তান হয়তো ভুল কোন কাজ করে ফেলতে পারে। তার জন্যে তাকে বোঝাতে হবে কেন কাজটি ভুল। কেন কাজটি করা উচিৎ নয়। একটি মাত্র কাজের জন্য একজন শিশু কোনভাবেই খারাপ হয়ে যেতে পারে না।

“তোমার জন্যেই তো সবকিছু করছি”
খুব সাধারণ এবং প্রাকৃতিক একটি ব্যাপার হচ্ছে, নিজের সন্তানের জন্যে প্রতিটি মা-বাবা তাদের সাধ্যমতো সবকিছু করার চেষ্টা করবেন। এটা বাড়তি কিছু নয়! এটাকে আলাদাভাবে সন্তানদের সামনে বলার কিছু নেই! কোন সন্তান নিজ ইচ্ছায় এই পৃথিবীতে আসেনি। মা-বাবা’র সম্মিলিত প্রয়াস এবং ইচ্ছাতেই তারা এই পৃথিবীর আলো দেখতে পেরেছে। তাই, শিশু সন্তানদের সামনে এমন ধরণের উক্তি করা খুবই অগ্রহণযোগ্য। এমন ধরণের উক্তি সন্তানদের মনের উপরে বাড়তি চাপ তৈরি করে। তারা নিজেদের অজান্তেই মা-বাবা’র কাছে নিজেকে একটি বোঝা হিসেবে ভাবতে শুরু করে। যে কারণে, সকল ধরণের পরিস্থিতিতেই এমন ধরণের কথা বলা থেকে প্রতিটি মা-বাবা’র বিরত থাকতে হবে।

“বড় ছেলেমেয়েরা কখনোই ভয় পায় না”
সকলেই ভয় পায়। বড় থেকে ছোট সকলের মাঝে ভয় আছে। সকলের মাঝে ভীতি কাজ করে। এমন কথা বলে শিশুদের মনের ভয় দূর তো করা যায়ই না, উল্টা তাদের উপরে অনেক বেশী মানসিক চাপ তৈরি করে দেওয়া হয়। যে কোন পরিস্থিতিতেই সন্তান ভয় পেলে, নার্ভাস বোধ করলে তার সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করতে হবে। তাকে বলতে হবে- ‘ভয় পেলে কোন সমস্যা নেই। আমি তো আছি পাশে। সবাই ভয় পায়। তবে তুমি কিসের জন্য ভয় পাচ্ছ আমাকে বলো।‘

“তুমি এতো বেশী মোটা”
প্রশ্নটা না হয় আপনাদের সামনেই রাখা হোক। মা-বাবা’র কী কখনো তাদের সন্তানকে এমন ধরণের কথা বলা উচিৎ? তাও যদি হয় শিশু সন্তান! উত্তর অবশ্যই হবে- কখনোই না! ঠিক তাই। কোন শিশু যদি মোটা হয় তবে সে সেটা ইতিমধ্যে ভালো ভাবেই জানে। মা-বাবাও যদি তাকে আলাদাভাবে বলা শুরু করে তবে সেই শিশুটি খুব স্বাভাবিকভাবেই হীনমন্যতায় ভোগা শুরু করে দেবে। সেক্ষেত্রে সন্তানকে বলতে হবে- ‘আমি ভাবছি আগামীকাল থেকে নতুন কিছু ব্যায়াম করা শুরু করব। তুমিও কি আমার সাথে ব্যায়াম করবে?’

শিশু সন্তানকে কী বলছেন, সেটা ভালোভাবে খেয়াল রাখা উচিৎ। যেহেতু শিশুদের মন খুব নাজুক হয়, তাই খুব ছোট কোন কথাতেও তারা অনেক বড় মানসিক আঘাত পেতে পারে। সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে বড় করতে চাইলে সবার আগে নিজেকেই শুধরে নিতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com