web stats ঘরোয়া পদ্ধতিতে ধ্বংস করুন উকুনের বংশ!

রবিবার, ৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ধ্বংস করুন উকুনের বংশ!

উকুনের সমস্যায় অস্থির? বিশেষ করে বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে বৃষ্টির দিনে বাড়ে উকুনের উপদ্রব। অন্যদিকে বড় মানুষদের চাইতে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে উকুনের আক্রমণ হয় বেশি। একে তো বাচ্চারা পার্সোনাল হাইজিন জিনিসটা সেভাবে বোঝে না। অন্যদিকে বন্ধু বান্ধবের সাথে মেলামেশা করে স্কুল বা খেলার মাঠ থেকে উকুন নিয়ে ফেরাটাও নিত্যদিনের ঘটনা।
তাহলে উপায়?

উপায় একটা আছে বটে, কিন্তু সেটার জন্য ধৈর্য চাই। উকুন নাশের জন্য নানান কোম্পানির হোমমেড তেল পাওয়া যায়, শ্যাম্পু পাওয়া যায়। সেগুলোর মাঝে অনেক কিছুই ভালো কাজ করে। মিট মনস্টারে আমরা নানান রকমের তেল হাতে তৈরি করে থাকি, উকুন নাশের জন্যও একটি তেল আমাদের আছে। উকুন নাশক তেল তৈরির সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আজ লিখবো উকুন চিরতরে বিনাশের একটি ঘরোয়া উপায়। যারা কোন কোম্পানির তেল বা শ্যাম্পু ব্যবহার করতে চান না, ঘরোয়া পদ্ধতিতে উকুন দূর করতে চান ১০০ ভাগ নিরাপদ উপায়ে, এই লেখাটি কেবল তাদের জন্য। নিয়মিত ব্যবহার করলে এতে অবশ্যই নিরাময় হবে

উকুন সমস্যার। যা লাগবে

নিম পাতা মিহি করে বেটে নেয়া।
নিম পাতা যে কেবল চুলের উকুনই ধ্বংস করবে, সেটা কিন্তু নয়। মাথার তালুকে যে কোন রকমের খোস পাঁচড়া, খুশকি ইত্যাদির সমাধানও করে নিম পাতার ব্যবহার। নিমের রস বা নিম সেদ্ধ পানি দিয়ে চুল নিয়মিত ধুয়ে নিয়ে চুল নরম ও সিল্কিও করে। এছাড়াও কৃমি দূর করতে, ঘর থেকে পোকামাকড় তাড়াতে, ব্রণ মুক্ত পরিষ্কার ত্বক পেতে নিমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। দারুণ ঔষধি গুণে ভরা এই উপাদানটি রূপচর্চায় ও স্বাস্থ্যরক্ষায় আদতেই অনন্য।

যেভাবে ব্যবহার করবেন
-পরিষ্কার চুলে একদম আগাগোড়া নিম পাতার পেস্ট মেখে নিন। মাথায় তালু সহ সমগ্র চুলে, যেভাবে আমরা মেহেদি দিয়ে থাকি। এভাবে ২/৩ ঘণ্টা রাখুন, তারপর চুল ধুয়ে ভালো করে শ্যাম্পু করে নিন। শ্যাম্পু করার সময়ে বা করার পর উকুন নাশক চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াবেন, দেখবেন যে বড় বড় উকুনেরা মরে ঝরে যাচ্ছে।

-প্রত্যেক সপ্তাহে ৩ বার করে এমন চালিয়ে যান টানা ৩ সপ্তাহ। সবচাইতে ভালো হয় একদিন পর পর একদিন ব্যবহার করলে। তবে, চুলে কেবল নিম পাতা দিলেই হবে না, মানতে হবে আরও কিছু নিয়ম। অন্যথায় উকুন গিয়েও যাবে না।

যে নিয়মগুলো অবশ্যই মানবেন

– এক সাথে এক বিছানায় যারা ঘুমান, সকলেই একসাথে নিম পাতার পেস্ট ব্যবহার করবেন। কিংবা এক বাড়িতে যাদের যাদের মাথায় উকুন আছে, সকলকেই একসাথে ব্যবহার শুরু করতে হবে।
-যেদিন ব্যবহার করবেন, সেদিনই বিছানার চাদর ও বালিশের কাভার বদলে নেবেন।
– ভেজা চুল বেঁধে রাখবেন না বা চুলে ময়লা জমিয়ে রাখবেন না।
-অন্যের তোয়ালে, চিরুনি ইত্যাদি ব্যবহার ত্যাগ করতে হবে।
-মাথায় উকুন আছে, এমন কারো সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে বসে বা শুয়ে থাকবেন না, এক বিছানা শেয়ার করবেন না।
নিম উকুনের ক্ষেত্রে ১০০ ভাগ কার্যকরী। কেবল সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার না করার কারণেই উকুনটা ফিরে আসে। ২/৩ বার ব্যবহারের পরই উকুন চলে যাবে, কিন্তু ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় উকুন ফিরে আসবে খুব দ্রুত।

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com