web stats কেয়ামতের দিন নামাজই একমাত্র মুক্তির উপায়!

বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কেয়ামতের দিন নামাজই একমাত্র মুক্তির উপায়!

যদি কখনো খুব মনোযোগ দিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়াটা খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন, অনেক সময়, অর্থ ব্যয় করে প্রথমে নিচের ফাউন্ডেশন তৈরি করা হয়। এটা করতেই মূলত সবচেয়ে বেশী অর্থ ব্যয় হয়, সময়ও বেশী লাগে। এরপরের কাজটুকু খুব দ্রুত হয়ে যায়। আল্লাহর দ্বীনকে যদি এই বহুতল ভবন নির্মাণের সাথে তুলনা করা হয় তাহলে এই দ্বীনের সেই ফাউন্ডেশন হল সালাত। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, “সবকিছুর মূল হল ইসলাম, আর ইসলামের খুঁটি সালাত, আর ইসলামের শীর্ষ পীঠ (চূড়া/ছাদ) হল জিহাদ।” [তিরমিযি:৩৫৪১]

কোন ভবন কতটা শক্তিশালি আর ঝুকিমুক্ত সেটা যেমন নির্ভর করে নিচের ফাউন্ডেশনের উপর ঠিক তেমনি একজন মুমিনের ঈমানের একাগ্রতার মাপকাটি হল সালাতের প্রতি তার মনোভাব। অথচ আজকের এই ফিতনাময় সময়ে মুসলিম উম্মাহ এই সালাতকেই ছেড়ে দিয়েছে। সালাত চলে যাচ্ছে, যে যার কাজে ব্যস্ত, মানুষ নাচছে, গাইছে, ফুর্তি করে বেড়াচ্ছে। সবকিছুর জন্য তার সময় আছে, শুধু সালাতের টাইমেই দুনিয়ার সব ব্যস্ততা এসে ভর করে। অথচ এটা এমন এক ইবাদাত যার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক অন্ধ সাহাবীকেও মসজিদে জামাতে সালাত আদায় থেকে অব্যাহতি দেননি। এটা এমন এক ইবাদাত হাশরের মাঠে যার হিসেব প্রথমেই নেওয়া হবে।

আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি নামাজের হিসাব ভালো হয় তবে তার সব আমলই ভালো হবে। আর যদি নামাজের হিসাব খারাপ হয় তবে তার সব আমলই বরবাদ হবে। (তাবরানি আওসাত : ১৯২৯, সহিহ আত-তারগিব : ৩৬৯।)

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের সংরক্ষণ করবে অর্থাৎ যথাযথভাবে সালাত আদায় করবে কেয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর, দলিল ও মুক্তির উপায় হবে। আর যে নামাজের সংরক্ষণ করবে না, তা তার জন্য নূর, দলিল ও মুক্তির উপায় হবে না। তার হাশর হবে ফেরাউন, কারুণ, উবাই ইবনে খালফের সঙ্গে।’ (আহমাদ : ৬৫৭৬, দারিমি : ২৭৭১।)

“সেদিন, যারা আল্লাহর দয়ায় জান্নাত লাভ করবে, তারা জাহান্নামীদের জিজ্ঞেস করবে “কেন তোমরা আজ এখানে এসেছ? কি তোমাদেরকে আজ এখানে নিয়ে এসেছে” তারা বলবে ,আমরা নামাজ পড়তাম না” (সূরা মুদ্দাসসিরঃ ৪২-৪৩)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ভীষণ অসুস্থ, শেষ সময়। মসজিদে সালাত আদায় করার মত শারীরিকভাবে সমর্থ নন। আবু বকর (রাঃ) এর ইমামতিতে সবাই ফজরের সালাতে দাঁড়ালো। মসজিদ থেকে তিলাওয়াতের শব্দ শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিছানা থেকে উঠলেন, জানালার পর্দা সরিয়ে দেখলেন, দেখলেন তার সাথীরা কাঁধে কাধ মিলিয়ে সারিবদ্ধভাবে তাদের রবের সামনে দাঁড়িয়েছে। দৃশ্যটা এত সুন্দর, মনোরম ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হাসলেন। কেননা তিনি সারাজীবন ধরে যে তারবিয়াত আর দাওয়াত দিয়ে বেড়িয়েছেন তার ফল তিনি এখন দেখছেন। যার জন্য তিনি রক্ত ঝরিয়েছেন, যুদ্ধ করেছেন, প্রিয়জন হারিয়েছেন, এটাই তো তার ফল।

সালাত কায়েম হবে, মুসলিমরা মুয়াজ্জিনের ডাকে একসাথে ঘর থেকে বেরিয়ে আসবে, একসাথে সালাতে দাঁড়াবে, এটাই তো ঐক্য, এটাই তো দ্বীনের ভিত্তি। অথচ সেই সালাতকেই আমরা অবহেলা করি, সেই সালাতকেই ছেড়ে দিই। সালাতই যদি ছেড়ে দিলাম তাহলে আর রইল কি। কিছুই না। আল্লাহ আমাদের সালাতকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার তৌফীক দিন। আমীন।

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com