web stats প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় কুলাউড়ার ট্রেন দুর্ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় কুলাউড়ার ট্রেন দুর্ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় ইসলামাবাদ,নন্দনগর,মহলালসহ আশপাশের গ্রামবাসী অনেকেই তখন ঘুমে। আবার কেউ কেউ নিচ্ছিলেন ঘুমের প্রস্তুতি। বরমচাল রেলস্টশন সংলগ্ন কালামিয়া (ফুলেরতল) বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করে ফিরছিলেন নিজ বাড়িতে। ওই ব্যবসায়ীদের অনেকেই প্রত্যক্ষ করছিলেন তাদের চিরচেনা ওই ট্রেনটির অচেনা দ্রুতগতি আর সাইরেন। হঠাৎ এমন দ্রুতগতি আর বিদঘুটে শব্দ শোনে তখন অনেকেরই সন্দেহ জাগে। কিছু দূর যেতে না যেতেই হঠাৎ ট্রেনের বিকট শব্দ।

সাথে সাথেই পেছনের বগিতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ আর ধোয়ার কুন্ডলি। এমন বিকট শব্দ আর দৃশ্যে অজানা শঙ্কা জাগায়। বাতাশেই ভেসে আসে যাত্রীদের গগণ বিদারী চিৎকার। এমনটিই জানাছিলেন ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজে আসা স্থানীয় লোকজন।

গতকাল (রোববার) রাতে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা উপবন এক্সপ্রেস কুলাউড়ার বরমচাল রেলওয়ে স্টেশন পাড়ি দিয়ে প্রায় ২শ গজ সামনে আগাতেই ইসলামাবাদ গ্রামের বড়ছড়া রেলওয়ে ব্রিজে ওঠার আগেই ব্রিজ ভেঙ্গে বিকট শব্দে ট্রেনটির পেছনের একটি বগি ছড়ায় পড়ে যায়। আর আরো তিনটি বগি দুমড়েমুচড়ে রেলসড়কের পাশেই পড়ে যায়। অন্য ২টি বগি ব্রীজের দক্ষিণ পাশেই লাইনচ্যুত অবস্থায় কাত হয়ে কোনো রকম দাঁড়িয়ে থাকে। ৬টি বগিই চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এসময় ট্রেন থেকে আগুনের ফুলকি আর ধোয়া বের হতে থাকে। এই ৬টি বগি পড়ে যাওয়ার পর সামনের ১১টি বগিই ওই দূর্ঘটনার স্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার যাওয়ার পর থেমে যায়। দূর্ঘটনার পর আহতদের চিৎকারে আশপাশের গ্রামবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। এবং ফায়ারসার্ভিস ও পুলিশকে দুর্ঘটনার খবর জানায়। খবর পেয়ে এলাকাবাসীর সাথে ফায়ার সার্ভিসের মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ১১টি ইউনিটসহ পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীদের উদ্ধার কাজ চালায়।

খবর পেয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের সহায়তায় বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের সরকারী বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে যায়। স্থানীয় পিকাপ ও লেগুনা মালিক সমিতির লোকজনও তাদের গাড়ি দিয়ে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করেন। ব্যক্তি মালিকাধীন প্রাইভেট গাড়িগুলোর মালিকরাও উদ্ধার ও ওই ট্রেন যাত্রী বহনের কাজে সহযোগীতা করতে দেখা যায়। দূর্ঘটনার খবর চাউর হলে কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা বরমচাল ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দাসহ পুরো উপজেলার লোকজন দ্রুত ছুটতে থাকেন ঘটনাস্থলে।

অন্ধকারের মধ্যে মুঠোফোনের আলো ও টর্চ লাইট জালিয়ে তারা সকলেই আহতদের উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন। গভীর রাতেও ব্রাহ্মণবাজার সিলেট সড়কে যাত্রীসহ দূর্ঘটনায় আহত নিহতদের উদ্ধারে সহায়তাকারীদের লোকজন ও যানবাহনের ভীড় ছিল লক্ষণীয়। ইসলামাবাদ গ্রামের মো: জহির আলী, মো: জয়নাল আবেদীন, নন্দনগর গ্রামের নরুল আমিন চৌধুরী তপু, মহলাল গ্রামের পারভেজ আহমদ,আহসান মিরাজসহ অনেকেই জানান দূর্ঘটনাস্থলের কাছেই তাদের বাড়ি। খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘুমাতে যাওয়ার আগেই তারা হঠাৎ বড়ছড়া ব্রিজের পাশে ট্রেনের বিকট শব্দ শুনতে পান।

এরই সাথে ট্রেনের পেছনের বগিতে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ আর ধোয়া দেখতে পান। এমন সময় ট্রেনের যাত্রীদের কান্না আর চিৎকারে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এই ভয়াবহ দূর্ঘটনার মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে তারা দ্রুত মুঠোফোনে ফায়ারসার্ভিস ও পুলিশকে এ খবর জানান। এবং তাদের প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীদের নিয়েই আহত যাত্রীদের উদ্ধার ও সহায়তায় নামেন।

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com