web stats হাতুড়ির আঘাতেও ভাঙছে না ডিম! ভিডিও ভাইরাল

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

হাতুড়ির আঘাতেও ভাঙছে না ডিম! ভিডিও ভাইরাল

হাতের দুই আঙুল দিয়ে চাপ দিলেই ভেঙে যাওয়ার কথা ডিমের। সেই ডিম কিনা হাতুড়ি পিটিয়েও ভাঙা যাচ্ছে না। কাল্পনিক নয় সত্যি; ইতোমধ্যে হাতুড়ি দিয়ে ডিম ভাঙার চেষ্টার এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরে ভারত-পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণরেখার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিয়াচেন হিমবাহ। হিমালয়ের কারাকোরাম পর্বতমালার অংশ এই হিমবাহে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত রয়েছেন ভারতীয় সেনারা। সেখানে এখন মাইনাস ৬০ ডিগ্রি (-৬০) তাপমাত্রা। এতে করে সবকিছু জমে পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে। খাবারের বাক্স, ফলের রসের বোতল এমনকি ডিম পর্যন্ত জমে এতটাই শক্ত হয়ে গেছে যে, এগুলো হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেও ভাঙা যাচ্ছে না।

ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমী তাদের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও শেয়ার করেছে। তাতেই আভাস মিলেছে সিয়াচেনে কেমনভাবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখেন জওয়ানেরা।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কাঠের বড় স্ল্যাবে কয়েকটা ডিম ভাঙার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তিন জওয়ান। কিন্তু ডিম পুরো পাথর। হাতুড়ির ঘায়েও ভাঙছে না। স্ল্যাবেই ছড়িয়ে রয়েছে আরও আনাজপাতি, টোম্যাটো, আলু, আদা, পেঁয়াজ ইত্যাদি। সবগুলিরই মোটামুটি একই দশা। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা হওয়ায় জুসের বাক্স, সবজি সবই কঠিন বরফ। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় যা কোনওভাবেই ফেরানো সম্ভব নয়। এদিকে পেটে না খেলে যে বন্দুক ধরা দূরের কথা, বেঁচে থাকাটাই অসম্ভব।

এই ভিডিও এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। ফেসবুক-টুইটারে কয়েক হাজার শেয়ার হয়ে গেছে। চারিদিকে ১৮ থেকে ২০ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়। বিস্তৃত বরফ। পশ্চিমতম প্রান্ত ছুঁয়েছে হিমালয়ের শেষ বিন্দুকে। সে দিক থেকেই বাঁক নিয়ে এই হিমবাহের পূর্ব দিকে এসে শেষ হয়েছে কারাকোরাম। পৃথিবীর দুই দুর্গমতম পর্বতশ্রেণির মাঝে ৭২ কিলোমিটার জুড়ে শুধুই বরফ।

হাতুড়ি হাতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে এক সেনা তো পাথরের ওপরে আছাড়ই মারলেন ডিমটিকে। তবু ডিম যেমন ছিল রইল তেমনটাই! সহকর্মীর এই চেষ্টা দেখে মজা করে আর এক সেনার মন্তব্য, ‘‌এই ধরনের ডিম একমাত্র সিয়াচেন হিমবাহেই পাওয়া যায়।’‌ অন্য জওয়ানের কথায়, ‘‌সিয়াচেনের তাপমাত্রা যখন তখন হিমাঙ্কের ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে নেমে যায়। বেঁচে থাকাটা এখানে নরক যন্ত্রণার মতো।’‌

ট্যুইটারে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সেনাবাহিনীকে কুর্নিশ জানিয়েছে নেটিজেনরা। তাঁদের মতে, ‘‌মাইনাস ৩০–৪০ ডিগ্রি তাপনাত্রাতেই জীবনধারণ অসম্ভব। সেখানে সিয়াচেন বেস ক্যাম্পে, মাইসাস ৭০ ডিগ্রির মধ্যে থেকে আমাদের পাহারা দিচ্ছে সেনাবাহিনী। আপনাদের সেলাম।’‌

১৯৮৪ সাল থেকেই সিয়াচেনে অবস্থান করছে ভারতীয় সেনা। শত্রুর গোলা নয়, পৃথিবীর উচ্চতম এই যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাদের সব থেকে বড় শত্রু হল প্রতিকূল আবহাওয়া। গত তিন দশক ধরে বহু সেনার মৃত্যু হয়েছে এই হিমবাহে।

Loading...

এই বিভাগের আরো খবর


Loading…

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com