web stats পাঁচ কারণে আপনার এখন থেকেই নামাজ পড়তে হবে

শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

পাঁচ কারণে আপনার এখন থেকেই নামাজ পড়তে হবে

নামাজ শুধু মানুষকে অশ্লীল ও অসৎকাজ থেকেই বিরত রাখে না বরং আসলে দুনিয়ার দ্বিতীয় এমন কোনো অনুশীলন পদ্ধতি নেই যা মানুষকে দুষ্কৃতি থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে এত বেশি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারে। এখন প্রশ্ন থেকে যায়, মানুষ নিয়মিত নামাজ পড়ার পর বিভিন্ন খারাপ কাজ করতে দেখা যায় কেন? জবাবে বলা যায়, এটা নির্ভর করে যে ব্যক্তি আত্মিক সংশোধন ও পরিশুদ্ধিও অনুশীলন করছে তার ওপর।

সে যদি এ থেকে উপকৃত হবার সংকল্প করে এবং এ জন্য প্রচেষ্টা চালায়, তাহলে নামাজের সংশোধনমূলক প্রভাব তার ওপর পড়বে। অন্যথায় দুনিয়ার কোনো সংশোধন ব্যবস্থা এমন ব্যক্তির ওপর কার্যকর হতে পারে না যে তার প্রভাব গ্রহণ করতে প্রস্তুতই নয় অথবা জেনে বুঝে তার প্রভাবকে দূরে সরিয়ে দিতে থাকে।

আমাদের সমাজে অনেক লোক আছেন যারা কোনো কারণ ছাড়াই নামাজ পড়েন না। তবে তারা সবাইকে বলেন আমি তো নামাজ পড়তে আগ্রহী। দুই, একটি পরেই নামাজ শুরু করব কিন্তু আসলে তারা নামাজ শুরু করেন না। কী কারণে নামাজ শুরু করছে না যদি তাদেরকে এমন প্রশ্ন করা হয় তাহলে তারা বলেন, আমি তো নামাজ শুরু করতে চাই কিন্তু পারছি না। এমন ব্যক্তিদের জন্য পাঁচটি টিপস।

১. মন স্থির করুন: নামাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। আল্লাহপাক নামাজের বিষয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সুতরাং আপনি যদি একজন সুস্থ মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে নামাজে অবহেলা করার জন্য অপনাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে। তা ছাড়ও নিয়মিত নামাজ পড়লে শারীরিক উপকারিতা রয়েছে যা আপনার সুস্থ থাকার বিষয়ে সাহায্য করবে। সুতরাং আপনি নিজে নিজে এর গুরুত্ব অনুধাবন করুন।

২. আল্লাহর সন্তুষ্টি: পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, কাজেই তোমরা আমাকে স্মরণ রাখো, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ রাখব আর আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং আমার নিয়ামত অস্বীকার কর না (সূরা-বাকারা, আয়াত-১৫২)

অন্য একটি আয়াতে আল্লাহপাক আরও ইরশাদ করেছেন, তোমাদের রব বলেন, আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব। যেসব মানুষ গর্বের কারণে আমার দাসত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তারা অচিরেই লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সূরা-আল মুমিন, আয়াত-৬০)

৩. মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাত: মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করা আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর সুন্নাত। আমাদের নবী (সা.) নিয়মিত মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতেন এমনকি তার যখন ভীষণ জ্বর থাকতো তখনও তিনি মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতেন। সুতরাং আমরা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর এই সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে অবশ্যই মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে হবে।

৪. মৃত্যুর পরের জীবন: কিয়ামের দিন প্রথমেই প্রশ্ন করা হবে তুমি নামাজ আদায় করেছ কিনা? যে নামাজ আদায় করবে আর যে নামাজ আদায় করবে না আল্লাহপাক তাদরে সম্পর্ক সবার আগে জানতে চাইবেন।

৫. সব সমস্যার সমাধান: নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মানুষের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। একজন মানুষ অনেক ধরনের খারাপ কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পারে কিন্তু তিনি যখন নামাজ আদয় করতে অভ্যস্ত হন তখন একটা সময় তিনি নিজের ইচ্ছাতেই খারাপ কাজ ছেড়ে দেন। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, তোমার প্রতি অহির মাধ্যমে যে কিতাব পাঠানো হয়েছে তা তেলাওয়াত করো এবং নামাজ কায়েম করো, নিশ্চিতভাবেই নামাজ অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণ এর চাইতেও বড় জিনিস। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কিছু করো। (সূরা-আনকাবূত, আয়াত-৪৫) একটি হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি নামাজের আনুগত্য করেনি তার নামাজই হয়নি আর নামাজের আনুগত্য হচ্ছে, মানুষ অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে। (ইবনে জারীর)

ইমাম জাফর সাদেক বলেন, যে ব্যক্তি তার নামাজ কবুল হয়েছে কিনা জানতে চায় তার দেখা উচিত তার নামাজ তাকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে কি পরিণাম বিরত রেখেছে। যদি নামাজের বাধা দেবার পর সে খারাপ কাজ করা থেকে বিরত হয়ে থাকে, তাহলে তার নামাজ কবুল হয়ে গেছে। (রুহুল মাআনী)।- মুসলিমস্টোরিজ

এই বিভাগের আরো খবর