web stats ঢাবি ছাত্রের মৃত্যুর আগে লেখা ‘নোট’ কাঁদাচ্ছে সবাইকে

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ঢাবি ছাত্রের মৃত্যুর আগে লেখা ‘নোট’ কাঁদাচ্ছে সবাইকে

আমার বয়স এখন সাতাশ, যদিও সার্টিফিকেট অনুযায়ী তা এখনও ২৫ পেরোয়নি। আমি আমার জীবনকে ভালোবাসি। আমি সুখী, আমার কাছের প্রিয়জনদের নিয়ে, কিন্তু সব ভালোবাসা, আপনজনদের ছেড়ে খুবই দ্রুত আমাকে অন্য কোথাও চলে যেতে হবে।

যদিও আমি যেতে চাই না, কিন্তু সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে নেই। আমরা হয়তো একভাবে আমাদের জীবনকে সাজাতে ব্যস্ত, কিন্তু ভাগ্য নিয়ন্ত্রণকারী হয়ত অন্য কিছু আমাদের জন্য সাব্যস্ত করে রেখেছেন। চাইলেই সবকিছু আমাদের ইচ্ছাধীন নয়।

আমি কখনোই তেমন কিছু লিখতাম না, কিন্তু আজ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমি সবাইকে কিছু কথা বলতে চাই। মানুষ মৃত্যুকে এমনভাবে যে কখনোই তা কাউকে স্পর্শ করবে না, কিন্তু বাস্তবিক অর্থে সবার জন্যই তা প্রযোজ্য, হয়তো কিছুটা সময়ের ব্যবধানে।

আমি সবাইকে বলতে চাই দয়া করে জীবনের ছোট ছোট, অর্থহীন অপ্রাপ্তি, কষ্টগুলোকে বাদ দিন। বরং ভাবুন একটি সময়ে সবাইকে একই পরিণতির দিকে যেতে হবে। সুতরাং, আমরা যা সময় পাচ্ছি তাকে অর্থপূর্ণ, আনন্দময় করাটাই মূখ্য হওয়া উচিত। জীবনকে জীবনের ছন্দে চলতে দেওয়াটাই জীবনের আনন্দ।

যখন জ়ীবনের সামনে বড় কোনো সমস্যা এসে উপস্থিত হয় তখন একটু চিন্তা করুন, আপনার আশেপাশে তাকান, দেখবেন অন্য অনেকে আরও অনেক বড় সমস্যায় জর্জরিত। তখন দেখবেন, আপনার সমস্যাকে…’

উপরে উল্লেখিত নোটটি লিখেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী তাওশিক আহমেদ। ঢাবির ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী এ শিক্ষার্থী অনার্সে সিজিপিএ ৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু আজ তিনি সকল প্রাপ্তি আর রেকর্ডের উর্দ্ধে চলে গেছেন। গত ২৯ এপ্রিল দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মৃত্যুর আগে সবার জন্য কিছু উপদেশমূলক কথা নোট-খাতায় লিখে গিয়েছেন তাওশিক। তারই কিছু অংশ-বিশেষ হিসেবে উপরের কথাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন তার একজন বন্ধু। এই নোটটি শেয়ার হতেই হাজারো মানুষ তাতে মন্তব্য করেছেন। কান্নার ইমোজি দিয়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর