web stats কি কারণে মাশরাঠি নিজের ও ছেলের জন্মদিন পালন করেন না

বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৮

কি কারণে মাশরাঠি নিজের ও ছেলের জন্মদিন পালন করেন না

২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর, আজ থেকে ২ বছর ২ দিন আগের কথা। স্থানটি ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রাণকেন্দ্র ‘মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম’ এর BCB ভবনের নিচতলার লাউঞ্জ। ঐ সময় ঘরোয়া ক্রিকেট বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসর বা সিরিজ কিছুই ছিল না তখন।

কোন সিরিজ না থাকলে সাংবাদিকরা যা করেন, সেদিন বিসিবির লাউঞ্জে বসে তাই হচ্ছিল। সাংবাদিকরা বসে গল্প করছিলেন। কিন্তু সে দিনের খোশ গল্পের বিষয় ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ‘মাশরাফি বিন মুর্তজা।’ ঐ দিনটি ছিল সে সময়ের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার জন্মদিন।

আগেই জানা ছিল মাশরাফি ঘটা করে জন্মদিন পালন করেন না। সরাসরি বলতে গেলে জন্মদিনে আনন্দ ফুর্তি, হৈ হুল্লোর, নাচানাচি, কেক কাটা বা আনুষ্ঠানিকতা পছন্দ করেন না তিনি। তারপরও নড়াইল এক্সপ্রেসের জন্মদিন ছিলো বলে কথা। তড়িগড়ি করে বিসিবির মিডিয়া লাউঞ্জ এ কেক আনা হল। সেই সাথে মাশরাফিকে সে লাউঞ্জে আসার আমন্ত্রণও জানানো হল। সঙ্গে জাতীয় দলের তখনকার ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনও থাকলেন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে।

সাংবাদিকেরা ভেবেছিলেন, যেহেতু মাশরাফি বাসায় আত্মীয় পরিজনের সঙ্গে ঘটা করে জন্মদিন পালন করেন না। কিন্তু এ কেক তো আর তার নিজের আনা না। সাংবাদিকরাই তার জন্মদিন উপলক্ষ্যে কেক এনেছেন। মাশরাফি ছুরি দিয়ে কাটবেন। একটা অন্যরকম পরিবেশ হবে এটাই ভেবেছিল সবাই।

খালেদ মাহমুদ সুজনকে সঙ্গে নিয়ে মাশরাফি লাউঞ্জে এলেন। বসলেন এবং কেকও দেখলেন। যেই তা কাটার কথা বলা হল, তখনই মাশরাফির আপত্তি। ‘না না! ভাই আমি তো কেক কাটি না। জন্মদিনে কোন রকম আনন্দ উল্লাস, হৈ চৈ কেক কাটা কিংবা ভুরিভোজ কিছুই আমাকে টানে না। আমি ওসব করিনে।’

ঠিক আছে, মানা গেল। কিন্তু এই কেক তো আর আপনি আনেননি। এটা সাংবাদিকরা এনেছেন। আপনি কাটুন আমরা সবাই মিলে মজা করে খাই। কিন্তু মাশরাফি ঠিকই অনঢ়। “না ভাই, আমি তো কেক কাটিনে। কাটবোও না। আসলে জন্মদিন মানেই হৈ চৈ, কেক কাটা এসব আমার ভাল লাগে না। আমি জন্মদিনে কোন রকম আনুষ্ঠানিকতা পছন্দ করি না। আমার বাসায় জন্মদিনে কখনই কেক কাটা হয় না। কোনরকম আনন্দ, উল্লাস বা উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজনও করি না।”

কি আর করা যায়? অগত্যা মাশরাফির পরিবর্তে জন্মদিন উপলক্ষে আনা কেক কাটলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। মাশরাফি বসে থাকলেন পাশেই । এটুকু শুনে নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে, মাশরাফি কি তাহলে কেকও মুখে দেননি? নাহ, তা দিয়েছেন, তবে সেটাও যেন ‘অনুরোধে ঢেকি গেলার’ মত। দুই সিনিয়র সাংবাদিক তার মুখে কাটা কেকের টুকরো তুলে দিলে মাশরাফি রাজি না থাকার শর্তেও যেন তা মুখে পুরে নেন।

কাকতালীয়ভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অধিনায়ক মাশরাফি জন্মদিন এবং এবং তার ছেলে সাহিলের জন্মদিন একই দিনে । পিতা ও পুত্রের একই দিনে জন্ম, খুব একটা দেখা দেয় না।

এই তো মাত্র ৪৮ ঘন্টা আগে পেড়িয়ে গেল পিতা মাশরাফি বিন মুর্তজা আর ছেলে সাহিলের জন্মদিন। ভেবেছেন, নিজের জন্মদিন পালন না করলেও পিতা মাশরাফি নিশ্চয়ই ছেলের জন্মদিন ঠিক ঘটা করে পালন করেছেন। নাহ, সেটাও সে অর্থে পালিত হয়নি। মাশরাফি নিজে কেক আনেননি। তবে আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ীদের অনেকেই কেক এনেছিলেন। তা খাওয়া হয়েছে, কিন্তু কাটা হয়নি।

কেন জন্মদিনে উৎসব পালন না করা? মাশরাফি কেন এমন ব্যতিক্রম? মাশরাফির জীবনে কি জন্মদিনে কোন নেতিবাচক ঘটনা প্রভাব ছিল? নাকি কোন প্রিয়জনের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল? ভক্তদের এই নিয়ে রয়েছে নানা কৌতুহল। মাশরাফির নিকট প্রশ্ন ছিল জন্মদিনে আনুষ্ঠানিকতা পালন করে সবাই। আপনি করেন না কেন? নিজের তো হয়ই না ছেলের জন্মদিনটাও পালিত হয় না আপনার বাসায়। কেন?

প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি অনেক কথাই বলেছেন। তবে সারমর্ম হলো জন্মদিনে কেক কাটার মতো আনুষ্ঠানিকতা না করাটার চিন্তা মূলত তার মায়ের। তিনি নিজেও তা লালন করেন। সে অর্থে আনুষ্ঠানিকতা সহিত জন্মদিন পালন না করা, কেক না কাটা তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও সংস্কার। আসলে মাশরাফির পরিবারের কাছে জন্মদিনের সংজ্ঞাটাই যেন ভিন্ন। তারা এ দিনটাকে উৎসব, আনন্দ করার চেয়ে বরং সৃষ্টি কর্তার কাছে দোয়া চাইতেই বেশি পছন্দ করেন।

মাশরাফির মা এবং তার নিজের জন্মদিন দর্শন এ রকম, জন্মদিন মানে হলো মানুষের জীবন থেকে ১ টি বছর হারিয়ে যাওয়া বা জীবন থেকে ১ বছর কমে যাওয়ার দিন। সে দিন আনন্দ, উৎসব , হৈ চৈ কিংবা কেক কাটাকাটির চেয়ে সৃষ্টি কর্তার কাছে দোয়া চাওয়া উত্তম।

তবে বিনয়ী এই মাশরাফি জন্মদিন নিয়ে তাদের পরিবারের এই দর্শন ও মতামত কিন্তু আর কারও ওপর চাপিয়ে দিতে নারাজ। নিজে জন্মদিনে আনুষ্ঠানিকতা না পালন করলেও যারা ঘটা করে জন্মদিন পালন করেন, কেক কাটেন, হৈ হুল্লোর করেন তাদের সম্পর্কে নড়াইল এক্সপ্রেসের মন্তব্য, ‘যারা জন্মদিন ঘটা করে পালন করেন, আনুষ্ঠানিককতায় কাটান, কেক কাটেন, আনন্দ-উল্লাস করেন, তারা যে অন্যায় করছে বিষয় টা এমন নয়। এটা যার যার ব্যক্তিগত ইচ্ছে ও মানসকিতা।

জন্মদিনে কেক না কাটা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আসলে কে কত দিন বাঁচবে বা কার আয়ু কত দিন? তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন আগেই ঠিক করে রেখেছেন। ধরা যাক, একজন মানুষ ৭০ বছর বাঁচবে। তাহলে জন্মদিন মানে তার জীবন থেকে এক বছর কমে যাওয়া। এ দিন হৈ চৈ করে কাটানোর চেয়ে সৃষ্টি কর্তার দয়া, কৃপা ও করুনা কামনা করাকেই আমি উত্তম মনে করি। আমাদের বাসায় সব সময়, জন্মদিনে দোয়ার আয়োজন করা হতো। এখনো হয়।

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com