web stats বিশ্বনবী (সঃ) এর প্রতি আবু বকরের (রাঃ) ভালোবাসা কেমন ছিল জেনেনিন

রবিবার, ১৯ মে ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

বিশ্বনবী (সঃ) এর প্রতি আবু বকরের (রাঃ) ভালোবাসা কেমন ছিল জেনেনিন

হজরত আবু বকর রা: ছিলেন নবীজির সবচেয়ে প্রিয় সাহাবি। হজরত আবু বকর রা: সিদ্দিকে আকবর নামে পরিচিত। তার উপাধি ছিল ‘আতিক’।

ইসলামের দাওয়াত পাওয়ার পর যিনি হজরত রাসূল সা:কে নওবুয়ত সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করেননি তিনি হলেন হজরত আবু বকর রা:।

হজরত নবী সা: বলেন, আমি যাকেই ইসলামের দাওয়াত দিয়েছি, সবার মধ্যে কম-বেশি সংশয় দ্বিধা অবশ্যই দেখেছি; কিন্তু আবু বকরের মধ্যে কোনো প্রকার সংশয় দেখিনি, দাওয়াতের সাথে সাথে আবু বকর কলেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গিয়েছে। হজরত মুহাম্মদ সা:-এর প্রতি আবু বকরের ভালোবাসা অতুলনীয় ছিল।

তিনি নবীজির প্রতি এমন ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন, যা পরে আর কোনো সাহাবা আবু বকরের ভালোবাসাকে অতিক্রম করতে পারেননি। মুসলমানের সংখ্যা যখন মাত্র ৩৯ জন, তখন আবু বকর নবীজির কাছে প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের জন্য অনুমতি চাইলেন। নবীজি আবু বকরের কাকুতি মিনতিতে অনুমতি দিয়েছিলেন।

আবু বকর ৩৯ জন মুসলমানকে নিয়ে কাবা শরিফে উপস্থিত হয়ে খুতবা (ভাষণ) দিলেন, যা বায়তুল্লাহ শরিফে মুসলমানদের প্রথম খুতবা। এদিন ছিল মুসলমানের প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের প্রথম দিন।

খুতবার শুরুতে কাফেররা আবু বকরকে বেদম প্রহার করে পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। প্রচণ্ড আঘাতের ফলে আবু বকর অজ্ঞান হয়ে পড়লে অন্য সাহাবিরা তাকে বাড়ি নিয়ে গেলেন।

দীর্ঘ সময় পর জ্ঞান ফিরলে আবু বকর সর্ব প্রথম জানতে চাইলেন- রাসূল সা:-এর কী অবস্থা, তিনি কোথায়? আবু বকরের জন্য খানাপিনার ব্যবস্থা করা হলো।

তিনি বললেন, আমি রাসূল সা:-এর সাথে সাক্ষাৎ না করা পর্যন্ত কোনো খাবার খাবো না। মক্কায় যখন কাফেরদের অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেল, তখন নবীজি হিজরতের সিদ্ধান্ত নিলেন। নবীজি সা: আবু বকরকে ডেকে বললেন, তোমাকে আমার সাথে যেকোনো সময় মদিনায় হিজরত করতে হবে।

নবীজি এ কথা বলার পর চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে হঠাৎ এক দিন রাতে আবু বকরের দরজায় নবীজি উপস্থিত হয়ে কড়া নাড়লেন। প্রথম ডাকের সাথে সাথে আবু বকর সাড়া দিলেন। নবীজি আর্শ্চায হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবু বকর! তুমি এখনো ঘুমাওনি?

আবু বকর বললেন, হুজুর আপনি যেদিন হিজরতের কথা বলেছেন, সেদিন থেকে আমি আর বিছানায় গা লাগাইনি। আমি রোজ দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করি। যদি রাসূল সা: আমার ঘরের দরজায় এসে আমাকে না পেয়ে ফিরে যান।

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় আবু বকর নবীজিরর সাথে সাওর পাহাড়ের গুহায় অবস্থান করেছিলেন। অন্ধকার গুহার মধ্যে সাপ বিচ্ছু থাকতে পারে এই ভেবে আবু বকর প্রথমে গুহায় নেমে গুহা পরিষ্কার করলেন। গায়ের জামা দিয়ে গুহার ভেতরের প্রত্যেকটি গর্তের মুখ বন্ধ করে দেয়ার পর একটি গর্তের মুখ বন্ধ করা বাকি ছিল।

গর্তের মুখ বন্ধ করার মতো আবু বকরের কাছে কিছুই ছিল না। অবশেষে আবু বকর নিজের পা দিয়ে গুহার মুখ বন্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে একটি সাপ আবু বকরকে ছোবল দিলো। আবু বকরের পুরো শরীর বিষে কালো হয়ে গেল। আবু বকরের ঊরুতে মাথা রেখে নবীজি আরাম করছিলেন। তারপরও নবীজিকে আবু বকর ডাকেননি।

এই ভেবে যে, নবীজির আরাম নষ্ট হবে। নবীজির কষ্ট হবে। বিষের যন্ত্রণায় চোখের পানির ফোটা যখন নবীজির শরীর মোবারকের ওপর গিয়ে পড়ল। নবীজি চোখ খুলে জিজ্ঞাস করলেন আবু বকর কাঁদছ কেন? এরপর আবু বকরের মুখ থেকে সব ঘটনা শুনে নবীজি বিস্মিত হয়েছিলেন।

অতঃপর নবীজি তাঁর মুখের লালা সাপের ছোবলের স্থানে লাগিয়ে দিলেন। সাথে সাথে আবু বকর সুস্থ হয়ে গেলেন। তাবুকের যুদ্ধের পর নবীজি সবাইকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা দেয়ার আদেশ করলেন, সবাই সামর্থানুযায়ী খেদমত নিয়ে এলো।

সবাই সাধ্যানুযায়ী খেদমত এনে রাসূল সা:-এর সামনে উপস্থাপন করল। সবার খেদমত দেখে হজরত ওমর মনে মনে ভাবলেন, আজ নবীজির আদেশ পালনে আমি প্রথম হবো।

নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন, হে ওমর! তুমি ঘরে কী রেখে এসেছ? হজরত ওমর বললেন, ঘরে যা ছিল তা থেকে সবকিছুর অর্ধেক নিয়ে এসেছি। এবার নবীজি আবু বকরকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু বকর! তুমি ঘরের মধ্যে কী রেখে এসেছ? আবু বকর বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে।

আবু বকরের এই কথা শুনে হজরত ওমর রা: বললেন, আপসোস! আমি আবু বকরের চেয়ে উত্তম হতে পারলাম না। আবু বকরের চরিত্র, সত্যবাদিতা, ত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে আবু বকর নবীজির প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্য প্রদর্শন করেছিলেন।

আল্লাহ পাক কোরআনে বলেন, ‘রাসূলের আহ্বানকে তোমরা তোমাদের একে অপরের প্রতি আহ্বানের মতো মনে করো না’ (সূরা নূর: ৬৩)।

হজরত আবু বকর রা: হজরত রাসূল সা:-এর হুকুমকে কখনো সাধারণ মানুষের হুকুমের মতো মনে করতেন না। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আপনি বলুন, তোমরা যদি আল্লাহ পাককে ভালোবাস, তাহলে আমার কথা মেনে চলো (আমাকে ভালোবাস), আল্লাহ পাকও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তিনি তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন’ (সূরা আল ইমরান : ৩১)।

আমরা যদি নবীজিকে মানি ভালোবাসি তাহলে হজরত আবু বকরের মতো ভালোবাসতে হবে। রাসূলের সুন্নত ও আদেশ নির্দেশ পালনে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। তা হলেই রাসূল সা:কে ভালোবাসা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর