web stats ইসলামপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে অন্তঃসত্তা

শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ইসলামপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে অন্তঃসত্তা

ইসলামপুরে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে অন্তঃসত্তা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে।

গত সোমবার ইসলামপুর থানায় উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে ফিরোজের (২৫) বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ করেছেন কিশোরীর পরিবার।

স্ত্রীর মর্যাদা ও অনাগত শিশুর পিতৃপরিচয়ের দাবীতে দ্বোয়ারে দ্বোয়ারে ঘুরছে প্রতারণার শিকার ৭মাসের অন্তঃসত্বা কিশোরী ও তার পরিবার।

জানা যায়, দিন মজুর বাপের মেয়ে আসমানী (ছদ্ম নাম)। গত বছর স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসা থেকে সমাপনী পরিক্ষায় পাশ করেছে। দারিদ্রতার কারণে বাবা আর পড়াতে পারেনি। থাকে নির্জন এক বন্দের ভিতর বাড়িতে । বাবা সকালে চলে যায় কাজের উদ্দেশ্যে। মা যায় অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। থাকে শশুড় বাড়িতে।

এমতবস্থায় আসমানী তার ছোট ভাইকে নিয়ে একাই অলস সময় কাটায় বাড়িতে। এই নির্জনতার সুযোগ নিয়ে পাশের বাড়ির কৃষক লাল ছেলে ফিরোজ (সম্পর্কে চাচা) প্রায়ই আসা যাওয়া করে তাদের বাড়িতে।

এই আসা যাওয়ার মাঝে ফিরোজ নানা ভাবে প্রলোব্ধ করতে থাকে আসমানীকে। ক্রমেই বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করে ফিরোজ। অলস, একাকিকতা ও উঠতি বয়সের ঝুঁকে নিজেকে আর সামাল দিতে পারে না সে। এক পর্যায়ে সারা দেয় আসমানী। তারপর থেকে ঘটতে থাকে অঘঠন।

আসমানী বুঝতে পারে, সে মা হতে চলেছে। ফিরোজকেও জানায় বিষয়টি। ফিরোজ তাকে মান সম্মানের ভয় দেখিয়ে আরও সময় চেয়ে চুপ থাকতে বলে। বহু কষ্টে ও নানা বাহানায় নিজের পরিবার এবং পাড়া প্রতিবেশির কাছে অন্তঃসত্তা ঘটনাটি আড়াল করে রাখে আসমানী। হঠাৎ একদিন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে আসমানীর মাথায়। যখন সে দেখতে পায় ফিরোজ গোপনে পাশের গ্রামের এক মেয়েকে বিয়ে করে এনেছে।

এমতবস্থায়, হতাশায় হতভম্ব হয়ে পড়ে অবুঝ এই কিশোরী। কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। অগত্যা ফিরোজের অবৈধ দৈহিক সম্পর্কের কারণে সে ৭ মাসের অন্তঃসত্তা, ঘটনাটি তার পরিবারকে জানা বাধ্য হয়।

এ ব্যাপারে আসমানীর বাবা মোঃ হাবুল শেখ বলেন, মেয়ের কাছে ঘটনাটি শোনার পরই পরই আমি আমার আত্মীয় স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশিকে জানাই। তারা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের শ্মরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। চেয়ারম্যানও সব দেখে শুনে স্থানীয় ভাবে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফিরোজের পরিবারে সম্মতি না থাকায় সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। অবশেষে আমি বিচার চেয়ে ইসলামপুর থানায় একটি অভিযোগ করেছি।

এ ব্যাপারে ফিরোজের মতামত জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।

পলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান,বীর মুক্তিযোদ্ধা, মোঃ শাহাদৎ হোসেন স্বাধীন বলেন, আমি ঘটনাটি জেনেছি ও মেয়েটিকে দেখেছি। বিষয়টি অত্যান্ত অমানবিক ও নেক্কারজন। তবে, যেহেতু দুই পরিবারের জন্য আত্মসম্মানের ব্যাপার তাই বিষয়টি আমি স্থানীয় ভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়ে ছিলাম। কিন্তু একপক্ষের অসমঝোতার কারণে সম্ভব হয়নি। অপরাধী যে-ই হোক তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন, এই জনপ্রতিনিধি।

এই বিভাগের আরো খবর