web stats প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার অধিকার আদায়ে ঘন্টাধ্বনী বাজালো ময়মনসিংহের শিশুরা

শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার অধিকার আদায়ে ঘন্টাধ্বনী বাজালো ময়মনসিংহের শিশুরা

শফিয়েল আলম: ‘আমরা ঘন্টা বাজাই’ একই সময়ে ঘন্টাধ্বনী বাজিয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করলো ময়মনসিংহের শিশুরা
বুধবার ঠিক দুপুর ১২টায় একই সঙ্গে, শহরের খাকডহর ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার(পি, সি, সি)এর উদ্যোগে একযোগে ময়মনসিংহের শিশুরা এক মিনিট ধরে ঘন্টা বাজিয়ে সকল প্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষার অধিকার আদায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলো নীতি নির্ধারক ও দেশবাসীর। “We ring the bell” নামক বিশ্বব্যাপী ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ও অ-প্রতিবন্ধী শিশুরা ২০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় প্রায় পাঁচ শতাধিক, ঢোল, বাদ্যযন্ত্র এমনকি থালা বাসনে আওয়াজ তুলে প্রতীকী এ কর্মসূচী পালন করেছে। একই সময়ে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ এবং ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী “We ring the bell” নামক এই ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর “We ring the bell এর মূল বার্তা হল: ” আমরা চাই প্রতিবন্ধীসহ সকল শিশু বিদ্যালয়ে আসুক”।

যে সমস্ত প্রতিবন্ধী শিশু স্কুলে যেতে পারে না তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অন্য সকল প্রতিবন্ধী ও প্রতিবন্ধী নয় এমন সকল শিশু, তাদের শিক্ষক, অভিভাবক মিলে এ কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ঠ নীতি নির্ধারন কর্তৃপক্ষের মনোযোগ আকর্ষন করলো। ৬০ নং খাগডহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাগডহর হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে দুপুর বারোটা থেকে বারোটা এক মিনিট পর্যন্ত একযোগে ঘন্টাধ্বনী বাজালো খাগডহর ইউনিয়নের শিশুরা। এ কর্মসূচীতে বিশিষ্টজন ও নীতি নির্ধারনী কর্তৃপক্ষের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, খাগডহর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ্ওয়াকিল উদ্দিন আহম্মেদ (স্বপন), ০৯নং খাগডহর ইউনিয়ন পরিষদ সচিব জনাব এ এন এম সাইফ্জ্জুামান, থাগডহর সরকারী প্রা: বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব জিন্নাত মহল, খাগডহর হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ উদ্দিন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব নিগার আবেদিন ও হাবিবা সুলতানা, পিসিসি নির্বাহী পরিচালক ড. অঞ্জন কুমার চিচাম, এস এম সি সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

সারা বিশ্বব্যাপি এই কার্যক্রমটি একইভাবে উদযাপন করছে প্রতিবন্ধী ও সাধারণ স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের আঙ্গিনায় একত্রিত হয়ে ১ মিনিটব্যাপি বেল ও ড্রাম বাজিয়ে অসাধারণভাবে কোলাহল তৈরী করেছে। “We ring the bell” ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি একই দিন বেল রিলে ও সিগনেচার ক্যাম্পেইন নামে আরো দু’টি পৃথক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় । উদ্দেশ্য একটাই প্রতিবন্ধী শিশুদের বিদ্যালয়ে গমনের বিষয়ে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন করা এবং তাদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার হওয়া । এই কর্মসূচীর মাধ্যমে তারা প্রতিবন্ধী শিশুদের বিদ্যালয় গমনে প্রতিবন্ধকতা দূর করার মাধ্যমে সকল প্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য নীতি-নির্ধারক ও সংশ্লিষ্ঠদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো।

“We ring the bell” ক্যাম্পেইনটি নেদারল্যান্ড ভিত্তিক লিলিয়ান ফাউন্ডেশনের একটি উদ্যোগ যা বাংলাদেশে এর কৌশলগত অংশীদার ডিআরআরএ (ডিজ্যাবল্ড রিহ্যবিলিটেশন এ্যান্ড রিসার্চ এসোসিয়েশন) সারা দেশে পালন করছে। বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষায় সহায়তা প্রদান ও সকলকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসার জন্য লিলিয়ান ফাউন্ডেশন ডিআরআরএ-কে সহায়তা করছে এবং ডিআরআরএ এর স্থানীয় অংশীদার সংগঠন প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার(পি, সি, সি) মাধ্যমে ময়মনসিংহ সদর থানার ০৯নং খাগডহর ইউনিয়নে তা বাস্তবায়ন করছে । কিন্তু বাংলাদেশে ও সারা বিশ্বে এ বিষয়ে সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। এসব স্কুল প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আক্ষরিক ও চরিত্রগত ভাবে আরও বেশি প্রবেশগম্য হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণ যেন প্রতিবন্ধী শিশুদের চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং শিক্ষা যে প্রতিবন্ধী শিশুরও মৌলিক অধিকার সেটা যেন সকলে অনুধান করে।

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com