web stats ঘুমের মধ্যে ভীতিকর স্বপ্ন দেখলে যা করণীয়

শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ঘুমের মধ্যে ভীতিকর স্বপ্ন দেখলে যা করণীয়

মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে সেই রাতের কোলে । নিস্তব্ধ হয়ে যায় প্রকৃতি। সুনসান নীরবতা বিরাজ করে সর্বত্র। ঘুমিয়ে পড়লেও কি থেমে থাকে কর্মচঞ্চল মানুষের কর্মযজ্ঞ? কখনোই নয়।

ঘুমের ঘোরে মানুষ প্রবেশ করে ভিন্ন জগতে। সে স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নের জাল বোনে। স্বপ্ন মানুষকে কখনো আনন্দিত করে, আমোদিত করে, উল্লসিত করে, আবার কখনো তাকে ব্যথিত, চিন্তাগ্রস্ত ও ভীতসন্ত্রস্ত করে।

স্বপ্ন কখনো সত্য হয়, কখনো মিথ্যা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সত্য স্বপ্ন নবুয়তের ৪৬ ভাগের এক ভাগ। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭২)

কার স্বপ্ন সত্যি হয়? হাদিস শরিফে এসেছে : ‘স্বপ্ন দর্শনকারীর সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে স্বপ্নের সত্যাসত্য সম্পর্কিত। যারা বেশি সত্যবাদী, তাদের স্বপ্নও বেশি সত্য হয়। ’ (মুসলিম, হাদিস : ৪২০০)।

প্রশ্ন হলো, কোন সময়ের স্বপ্ন অধিক সত্য হয়? হাদিস শরিফে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শেষরাতের স্বপ্ন অধিক সত্য (প্রতিফলিত) হয়। ’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১১২৪০)

মানুষের স্বভাব হলো, তারা কোনো স্বপ্ন দেখলে প্রিয়জনের কাছে তা বলে বেড়ায়। আবার অনেকে অন্যদের খুশি করার জন্য বানিয়ে বানিয়ে স্বপ্ন বর্ণনা করে।

অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো, কোনো ব্যক্তি নিজেকে তার পিতা ছাড়া অন্যের সন্তান বলে দাবি করা, আর যে স্বপ্ন সে দেখেনি, তা বর্ণনা করা। এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) যা বলেননি, তা তাঁর সম্পর্কে বলে বেড়ানো। ’ (বুখারি, হাদিস : ৩৫০৯)

ভালো স্বপ্ন দেখলে করণীয়

যদি কেউ ভালো স্বপ্ন দেখে, তাহলে তিনটি কাজ করবে—এক. আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলবে। দুই. এটা অন্যকে সুসংবাদ হিসেবে জানাবে।

তিন. স্বপ্ন এমন ব্যক্তিকে বলবে, যে তাকে ভালোবাসে। হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে, যা তার ভালো লাগে, তাহলে সে বুঝে নেবে, এ স্বপ্ন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে। সে এই স্বপ্নের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করবে আর অন্যকে এ ব্যাপারে জানাবে ।

আর যদি এমন স্বপ্ন দেখে, যা সে পছন্দ করে না, তাহলে বুঝে নেবে, এটা শয়তানের পক্ষ থেকে। তখন সে এ স্বপ্নের ক্ষতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং বাঁ দিকে তিনবার থুতু নিক্ষেপ করবে।

আর কাউকে এ স্বপ্নের কথা বলবে না। মনে রাখবে, এ (ভীতিকর) স্বপ্ন তার ক্ষতি করতে পারবে না। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬৫৮৩)

ভীতিকর স্বপ্ন দেখলে করণীয়

যদি কেউ ভীতিকর স্বপ্ন দেখে, তাহলে সে নিম্নোক্ত কাজগুলো করবে:

এক. এই স্বপ্নের ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং তিনবার ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়বে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬২)।

এ ক্ষেত্রে এই দোয়াও পড়া যায় : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিন শাররি হাজিহির রু’ইয়া । অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি এই স্বপ্নের অকল্যাণ থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’

দুই. বাঁ দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬১)

তিন. যে কাতে ঘুমিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখেছে, তা পরিবর্তন করে অন্য কাতে শুতে হবে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬২)। অবস্থা বদলে দেওয়ার ইঙ্গিতস্বরূপ এটা করা হয়ে থাকে।

চার. খারাপ স্বপ্ন দেখলে কারো কাছে বলা যাবে না। আর নিজেও এর ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করবে না। তবে হ্যাঁ, যাঁরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানেন, তাঁদের কাছে বলা যাবে । (বুখারি, হাদিস : ৬৫৮৩)

পাঁচ. ভীতিকর স্বপ্ন দেখলে উঠে নামাজ পড়বে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬৩)। উল্লিখিত পাঁচটি কাজ করলে আশা করা যায়, ভীতিকর স্বপ্নে তার কোনো ক্ষতি হবে না ।

স্বপ্নের ব্যাখ্যা কে দিতে পারবে?

অনেকে না বুঝে যার-তার কাছে স্বপ্নের বিষয় বলে বেড়ায়। এতে সে নিজেই নিজের ক্ষতির পথ প্রশস্ত করে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘স্বপ্নের ব্যাখ্যা যেভাবে করা হয়, সেভাবে তা বাস্তবায়িত হয়।

তোমাদের কেউ যখন স্বপ্ন দেখে, সে যেনো আলেম বা হিতাকাঙ্ক্ষী ছাড়া কারো কাছে তা বর্ণনা না করে।’ (মুসতাদরাক হাকেম : ৪/৩৯১)

প্রখ্যাত স্বপ্নবিদ আল্লামা ইবনে সিরিন (রহ.) তাঁর ‘তাবিরুর রুইয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন : ‘স্বপ্নের ব্যাখ্যাকারীদের জন্য কোরআনের তাফসিরের জ্ঞান, রাসুল (সা.)-এর হাদিস সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান, আরবি ও অনারবি বিভিন্ন ভাষার শব্দের বিবর্তন সম্পর্কে অবশ্যই জ্ঞান থাকতে হবে।

স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানার জন্য বুজুর্গ, সূক্ষ্ম জ্ঞানের অধিকারী ও সুসাহিত্যিক হওয়া জরুরি। এ ছাড়া যিনি স্বপ্নের তাবির বা ব্যাখ্যাদানকারী হবেন, তাঁর সার্বিক অবস্থা ভালোভাবে জানা থাকতে হবে। সব সময় সত্য পথে চলতে হবে।

তাহলে আল্লাহপাক বিশেষ অনুগ্রহে তাঁকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন। তাঁর জবান (মুখ) সত্য ও নেক হতে হবে। এর ফলে আল্লাহপাক তাঁকে বিশেষভাবে সাহায্য করবেন।

তাঁর চিন্তাও হতে হবে সৎ ও স্বচ্ছ। খাবার হতে হবে হালাল। মোটেও অনর্থক কথা বলা যাবে না এবং সব ধরনের পাপ থেকে নিষ্কলুষ হতে হবে। তাহলে তিনি জ্ঞানী ও নবীদের প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে গণ্য হবেন। ’

এই বিভাগের আরো খবর