web stats মসজিদ-মক্তবের শৈশবের সেই উচ্ছাসিত চিৎকার, আলিফ-বা-তা-ছা-এর সুর এখন অনেকটাই ক্ষীন

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

মসজিদ-মক্তবের শৈশবের সেই উচ্ছাসিত চিৎকার, আলিফ-বা-তা-ছা-এর সুর এখন অনেকটাই ক্ষীন

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: ঐতিহাসিকভাবে চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী এখন আর তখন একাল আর সেকাল আধুনিকযুগের সকল জাত-ধর্মের বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক, লেখক গভেষকদের অভিন্ন অভিমত পৃথিবীর সবচাইতে মধুর সুর হচ্ছে আযান। আর পাঁচওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজরের আযানের শেষের দিকের সুর – “ আচ্ছালাতু-খায়রুম-মিনান্ননাওম” অর্থাধ “ ঘুম হইতে নামায উত্তম ” হচ্ছে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ট সুর। সেই ছোট্টবেলায় ফজরের নামাযের পরপরই মুসলিম শিশু-কিশোররা ঘুম জড়ানো ঢুলু-ঢুলু চোখে চোখ কচলাতে-কচলাতে হাজির হতো পাড়া-মহল্লার মসজিদের মক্তবে-মক্তবে। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে কোরআন শিক্ষার মক্তব। আগের মত এখন আর কঁচিকাঁচা শিশুদের কোরআন শিক্ষার জন্য মক্তবে যেতে দেখা যায় না। কালিমা আর আলিফ, বা, তা এর শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে না জনপদ।

যুগ যুগ ধরে সামাজিক রেওয়াজ ছিল কোরআন শুদ্ধ করে জানে এমন একটি মেয়েই হবে বাড়ির পুত্রবধু। যাতে ঘর কোরআনের শব্দে বরকতময় হয়ে উঠে। এখন হারিয়ে যাচ্ছে সেই ঐতিহ্য। মক্তব একটি আরবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ পাঠশালা বা বিদ্যালয়। শিশুদের কোরআন শিক্ষার এবং ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞানার্জনের কেন্দ্র হলো এ মক্তব। এখান থেকেই শিশুরা কোরআন তেলোওয়াত শেখার পাশাপাশি নামাজ-রোজার নিয়ম কানুন, দোয়া-কালাম ইত্যাদি শিখতে পারে। কিন্তু এখন আর রোজ সকালে কোরআনের আওয়াজ শিশুদের কন্ঠ থেকে বের হয় না। শিশুদের অভিবাবকদের অবহেলার কারনে এখন মক্তবে কোরআন পড়ানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। যার কারনে শিশু কিশোররা কোরআন শিক্ষা থেকে বি ত হচ্ছে।

কলাপাড়া পৌরশহরের কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও মক্তবগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বন্ধই হয়ে গেছে। কোথাও যা-ও চালু আছে, সেগুলোতেও আগের মতো জৌলুস নেই। শিশুদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অনেক ইমাম-মোয়াজ্জেমের সাথে মক্তবের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনের অযুহাত দেখিয়ে এখন অভিভাবকরা শিশুদের মক্তবে পাঠাতে চান না। অধিকাংশ শিশুরাই সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্কুলে কোচিং অথবা কিন্ডার গার্টেনে ক্লাসের সময় হয়ে যায় বলে অভিভাবকদের । এভাবে চলতে থাকলে ইসলামী বুনিয়াদি শিক্ষার এ অবারিত ও ঐতিহ্যগত প্রতিষ্ঠান চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। পরিণত হতে পারে অতীত ইতিহাস।

কালের পরিবর্তনে মক্তব হারিয়ে গেলেও কলাপাড়া পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় এখনো কিছু মক্তব চোখে পড়ে। সরেজমিনে ৪নং ওয়ার্ড এতিমখানা কাজী নজরুল ইসলাম সড়কস্থ জামেমসজিদে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের বারান্দায় মাত্র অল্প কয়েকজন কঁচিকাঁচা শিশু-কিশোর কোরআন গড়ায় ব্যস্ত। এসময় মসজিদের ইমাম রাশেদুল ইসলাম মক্তবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে এখন অভিভাবকেরা কঁচিকাঁচা শিশুদের মক্তবে পাঠাতে চান না। এর আগে দেশের প্রতিটি মুসলিম জাতিকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গন শিক্ষা চালু করেন।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ইসলামী ফাউন্ডেশন রয়েছে। যদিও তিন স্তরে, অর্থাৎ প্রাক প্রাথমিক, বয়স্ক ও কুরআন শিক্ষা চালু করলেও কিছু কিছু শিশুরা এসব ফাউন্ডেশনে পড়তে আসে। তারই একটি ফাউন্ডেশনের উদ্দ্যেগে ৪ নং ওয়ার্ড এতিমখানা জামেসসজিদের মক্তব ইসলামি ফাউন্ডেশনের শিক্ষক হাফেজ মোঃ ফেরদৌসের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে মক্তব কার্যক্রম প্রায় বিলুপ্তির পথে। অনিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন এ শিশুদের শিক্ষাদানের কারনে মক্তব হারিয়ে যাওয়ার একমাত্র কারন বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু ইসলামী ফাউন্ডেশন যদি উপজেলার সবকটি এলাকায় থাকতো তাহলে প্রতিটি শিশুর মধ্যেই ছড়িয়ে দেয়া সহজ হতো ধর্মীয় জ্ঞান ।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: তানভীর রহমান বলেন, কিন্ডার গার্টেনের ভীরে মুসলমানদের ঐতিহ্যবাহী মক্তবে শিশু-কিশোরদের সংখ্যা কমে গেলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনার নিজ উদ্দ্যেগে আগের সেই মক্তব অবার স্ব-মহিমায় ফিরতে শুরু করেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুররহমান কতৃক প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ফাউন্ডেশন সারাদেশের ন্যায় কলাপাড়ায়ও মসজিদ-মাদ্রাসা ভিত্তিক ১১৭ টি মক্তব পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমান সরকার ্এই পদক্ষেপকে আরো সামনে ্এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কলাপাড়ায় নতুন করে আরো ১০ জন শিক্ষক নিয়োগ দিচেছ ।

কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মাওলানা মো: সফিইল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকার ইসলামী ফাউন্ডেশন কতৃক পরিচালিত এ মক্তবের সংখ্যা আরো সমপ্রসারনের উদ্দ্যেগ নিচ্ছেন । এর মধ্যে পৌর শহরে অবস্থিত এতিমখানা মসজিদ, ফেরীঘাট মসজিদ, অয়েলমিল রোড মসজিদ, বাদুরতলী স্লুইজসংলগ্ন মসজিদ, খেপুপাড়া নেছারউদ্দিন সিনিয়র মাদ্রাসা, চম্পাপুর ইউনিয়নের গোলবুনিয়া মাদ্রাসা, কুয়াকাটায় মেলাপাড়া দাখিল মাদ্রাসা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এই বিভাগের আরো খবর