web stats অপু বিশ্বাস নারায়নগঞ্জ কেন গিয়েছিলেন

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭

অপু বিশ্বাস নারায়নগঞ্জ কেন গিয়েছিলেন

সম্প্রতি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিচ্ছেদ ঘটছে। শাকিব খানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল এলাকাতে। তার শৈশব কৈশোর কেটেছে নারায়ণগঞ্জে। সরকারী তোলারাম কলেজেও কিছুদিন লেখাপড়া করেছেন শাকিব খান। যদিও এখন তিনি ঢাকাতে বসবাস করেন। এদিকে জনপ্রিয় তারকা হওয়ার পরে শাকিব খানকে নারায়ণগঞ্জে দেখা না গেলেও তার প্রাক্তন সহধর্মিনী অপু বিশ্বাস নারায়ণগঞ্জে এসে পারফর্ম করে গেছেন।

সোমবার ১৮ ডিসেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী মাহবুবুর রহমান মাসুম ও সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী ইকবাল হাবিব এর আয়োজনে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে পারফর্ম করেন অপু বিশ্বাস। ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ওই অনুষ্ঠানে মেয়র আইভী অপু বিশ্বাসকে সাহসও যুগিয়েছেন। তাকে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে মেয়র আইভী বলেন, আমি আজকে কিছু বলার জন্য আসিনি। আমি শুধু ক্লাব মেম্বার এবং প্রার্থীদের আয়োজন উপভোগ করতে এসেছি। আমি আপনাদের মতই ক্লাবের একজন সাধারণ মেম্বার। চিত্র নায়িকা অপু বিশ্বাস যেহেতু আমাকে কিছু কথা বলতে বলেছে, তাই তাকে সম্মান করেই বলছি। মানুষের জীবনে হার জিত থাকেই। খারাপ ভাল মিলিয়ে মানুষের জীবন। নারীদের ক্ষেত্রে কিছু হলেই সমাজ নারীদের দিকেই আঙ্গুল তোলে। দোষ হোক যে কারো, সেটা নারীদের উপর দিয়েই যাবে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে বলছি আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হতে হবে। যার সাহস আছে সেই আগাতে পারে। অপু বিশ্বাস যদি ব্যক্তি জীবনে পরিষ্কার থাকেন তবে আপনাকে বলছি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সত্যকে মেনে নিতে হবে, নিজের সাথে প্রতারণা করা যাবে না। সত্য যত কঠিনই হোক তাকে প্রকাশ করতে হবে। সেটা যে ক্ষেত্রেই হোক । সামাজিক , রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তি জীবন।

উল্লেখ্য চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিচ্ছেদ ঘটছে। শাকিব খানের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল এলাকাতে। যদিও এখন তিনি ঢাকাতে বসবাস করেন। শাকিব খানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল সোমবার দুপুরে বলেন, গত শুক্রবারই আইনজীবীর মাধ্যমে তালাকনামা পাঠিয়েছেন এই চিত্রনায়ক। ইকবাল জানান, সকাল থেকে সাংবাদিকদের একের পর এক ফোন পেয়েই তিনি শাকিবকে ফোন করেছিলেন।“আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম ঘটনা আসলে সত্য কি না? শাকিব বলেছে, ঘটনা সত্য।” তবে শাকিবের আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেছেন, “গত ২২ নভেম্বর ডিভোর্স লেটার পাঠানো হয়েছে। তাকে আইনগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।” এই তারকা জুটির বিচ্ছেদ নিয়ে গত দুই মাসে একাধিকবার প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে পত্রিকায়। কিন্তু অপু সেসব খবর উড়িয়েই দিয়েছিলেন।

মুসলিম রীতি মেনে বিয়ের পর গৃহিনী হয়ে না থাকার কারণ দেখিয়ে অপু বিশ্বাসকে তালাকনামা পাঠিয়েছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। ২২ নভেম্বর অপুর ঠিকানায় পাঠানো তালাকনামায় শাকিব খান এ কারণ দেখিয়েছেন বলে জানান তার আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বিয়ের সময় ধর্মান্তরিত হয়ে অপু বিশ্বাস শাকিব খানকে বিয়ে করেছিলেন। কথা ছিল তিনি মুসলিম রীতিনীতি মেনে চলবেন ও গৃহিনী হয়ে থাকবেন। কিন্তু অপু বিশ্বাস সে কথা রাখেননি।”

তালাকনামায় শাকিব অভিযোগ তোলেন, পুত্রসন্তান জয়কে বাড়িতে গৃহকর্মীর সঙ্গে তালাবন্ধ রেখে ‘ছেলেবন্ধুকে নিয়ে’ দেশের বাইরে যান অপু। গতমাসের মাঝামাঝিতে ওই ঘটনার পর একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন।

শাকিবের তালাকের নোটিসে বলা হয়েছে, ছেলেকে তালাবন্ধ করে রাখার খবর শুনেই অপুর বাসায় ছুটে যান তিনি। কিন্তু সন্তানকে উদ্ধার করতে না পেরে পরে থানায় জিডি করেন।

তবে অপু বিশ্বাস বিষয়টি অস্বীকার করে সে সময় গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, তিনি চিকিৎসা করাতে কলকাতায় গিয়েছিলেন। ছেলে জয়কে কাজের মেয়ের কাছে নয়, বড়বোনের কাছে রেখে গিয়েছিলেন। ছেলেকে ভারতে না নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানিয়েছিলেন, কলকাতার শীতের কারণেই ছেলেকে রেখে গিয়েছিলেন।

আইনজীবী বলেন, এসব ঘটনার কারণেই শাকিব খান অপুকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত ২২ নভেম্বর অপু বিশ্বাসের ঢাকার বাসা ও বগুড়ার ঠিকানায় রেজিস্ট্রি করা হলফনামা আকারে তালাকনামা পাঠানো হয়।

পরবর্তী প্রক্রিয়া জানতে চাইলে আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বলেন, “নিয়ম হলো ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সালিশি পরিষদ দুজনকে ডেকে নিয়ে বসবে যেন সংসারটি ভেঙে না যায়। যদি শাকিব খান তারপরও মনে করেন এটাই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, তবে ৯০ দিন পর তালাকনামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে।”

সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, “ছেলের জন্মদিনে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন শাকিব খান। এছাড়া প্রতিমাসে ছেলের ভরণ-পোষণ বাবদ কমপক্ষে তিন লাখ টাকা দেন।”

দেন মোহরের সাত লাখ টাকা অপু বিশ্বাস চাইলে যে কোনো সময় দিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান এই আইনজীবী।
২০০৬ সালে ‘কোটি টাকার কাবিন’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে শাকিব-অপুর জুটি গড়ে ওঠে। ২০০৮ সালে তাদের বিয়ে হয়। গতবছরের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায় তাদের পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু সেসব তারা আড়ালেই রেখেছিলেন।
অপু গত এপ্রিলে সন্তান কোলে টেলিভিশন লাইভে এসে সেই খবর প্রকাশ করলে বিষয়টি নাটকীয়তার জন্ম দেয়। শাকিব খান এ নিয়ে শুরুতে বিভিন্ন রকম কথা বললেও পরে তাদের মধ্যে মিটমাট হয়ে যায়। তার মাস দুয়েকের ব্যবধানে দু’জনের দূরত্ব বাড়তে থাকে। পুত্র জয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে শাকিব খানের ছবি না থাকা ও অনুষ্ঠানে শাকিবের অনুপস্থিতির কারণে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়।

সম্প্রতি সবুজ ছায়া হাউজিং গ্রুপের শুভেচ্ছা দূত নিয়োজিত হয়েছেন অপু বিশ্বাস। আজ চুক্তি স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই দায়িত্ব বুঝে নিলেন তিনি। পাশাপাশি এই অভিনেত্রী শিগগিরই ফিরছেন চলচ্চিত্রে। এরইমধ্যে ‘কাঙ্গাল’ ও ‘কানাগলি’ নামে দুটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধও হয়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com