web stats স্বাধীনতা যুদ্ধের বাংলোতে ‘৫০০ জনকে হত্যার সন্ধান করতে বগুড়ায় কূপ খনন…

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭

স্বাধীনতা যুদ্ধের বাংলোতে ‘৫০০ জনকে হত্যার সন্ধান করতে বগুড়ায় কূপ খনন…

স্বাধীনতা যুদ্ধের বিভিন্ন দলিলপত্রে উল্লেখ আছে- “বগুড়ার রেলওয়ে স্টেশনের এসডিও বাংলোতে নির্যাতন করে প্রায় পাঁচশ’ জনকে হত্যা করে পাশের একটি কূপে ফেলা হয়েছে।” আর সেই টর্চার সেল এবং কূপের অনুসন্ধানে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেখানে খনন কাজ শুরু হয়েছে।

স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও আড়ালে ছিলো ওই বাংলোটি। ১৯৭২ সালে লেখা ভবেশ রায়ের ‘বাংলাদেশে গণহত্যার প্রামাণ্য দলিল’ বইটিতে তথ্য মেলে যে- সেখানে কমপক্ষে ৫শ’ জনকে নির্মমভাবে হত্যা একটি কূপে করে ফেলা হয়। তাছাড়া, মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রের অষ্টম খণ্ডে দাশিন জামাদার নামে তৎকালীন রেলওয়ে কর্মচারীর দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কমপক্ষে ৫শ’ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে ওই কূপে ফেলে দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে।

বগুড়ায় সরকারিভাবে চিহ্নিত বধ্যভূমিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বধ্যভূমিটিতে ৪০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। সে হিসেবে এসডিও বাংলোটি বদ্ধভূমি হিসেবে চিহ্নিত হলে এটিই হবে সবচেয়ে বড় বধ্যভূমি। এবিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক জেলা প্রশাসনে যোগাযোগ করলে সেখানে অবস্থিত কূপসহ আশপাশে খনন করে অনুসন্ধানের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। তারই প্রেক্ষিতে এই খনন কাজ শুরু করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই খনন কাজের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী। এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডর রুহুল আমীন, মুক্তিযোদ্ধা ডা. আরশাদ সায়ীদ, প্রকৌশলী মো. সাহাবুদ্দীন সৈকত, সাংবাদিক মাহমুদুল আলম নয়ন,আব্দুস সালাম বাবু, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতাম মাহমুদ খানরনিসহ মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিশু সংগঠন বাবুইয়ের শিশুরা এবং নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

বধ্যভূমি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের এমন অনুসন্ধানকে স্বাগত জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, খননের পর প্রমাণ সাপেক্ষে বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সেইসাথে জেলার অন্যান্য বধ্যভূমিগুলোও যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com