web stats সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ এ আর রহমান যেভাবে মুসলমান হয়েছিলো

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭ আশ্বিন ১৪২৭

সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ এ আর রহমান যেভাবে মুসলমান হয়েছিলো

ইসলাম শান্তির ধর্ম, সেটা ভারতের বিখ্যাত সঙ্গিত পরিচালক ও শিল্পী এ আর রহমানও বুঝেতে পেরেছিলেন। তাইতো তিনি ইসলামের শান্তির পতাকা তলে নিজেকে নিয়ে এসেছেন। আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা যে ভারতের এই সঙ্গীত পন্ডিত আগে হিন্দু ছিলেন। আসুন এ আর রহমানের জীবনের কিছুটা গল্প শুনে নিই।

আজকের বিখ্যাত এ আর রহমান জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ১৯৬৭ সালের ৬ জানুয়ারি ভারতের মাদ্রাজে। বাবা ছিলেন সেই সময়ের বিখ্যাত তামিল সঙ্গীত পরিচালক আর কে শেখর এবং মা গৃহবধূ কস্তুরী দেবী। জন্মের পর বাবা তার নাম রেখেছিলেন এ এস দিলীপ কুমার । বাবা বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক হলেও এ আর রহমান খুব বেশি দিন বাবার কাছ থেকে তালিম নিতে পারেন নি। কারণ, ১৯৭৬ সালে মাত্র নয় বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান।
তার পর থেকে মাকে কেন্দ্র করেই বেড়ে উঠেছেন রহমান। বাবাকে হারানোর পর দিলীপের তিন বোন ও মায়ের পুরো দায়িত্ব কাধে এসে পড়ে তার। এই টুকু বয়সে পুরো সংসারের হাল ধরেছেন তিনি। বাবার দুটো কি-বোর্ড ভাড়া দিয়ে তখন সংসার চলত তাদের। ১১ বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন অর্কেস্ট্রা গ্রুপের সাথে কি-বোর্ড বাজাতে শুরু করেন রহমান। সঙ্গীতকে ভালোবেসে নয়, পেট চালানোর জন্য। আর এভাবেই আস্তে আস্তে তার শয়নে-স্বপনে জাগরণে বাসা বাঁধতে শুরু করে সপ্তসুর।
সেই সময় বড় হয়ে দিলীপ হতে চেয়েছিলেন ইলেকট্রকিস অথবা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। এ আর রহমান তার স্মৃতিচারণে বলেন, মিউজিকের জন্য ততটা ক্রেইজি ছিলাম না যতটা ছিলাম টেকনোলজির প্রতি। ঘটনাচক্রে মিউজিক ও টেকনোলজি উভয়ের সম্মিলন হয় শেখরের সিনথেসাইজারের মাধ্যমে।

জীবনের একটা সময় দিলীপ হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়েছিরেন। কিন্তু কেন তিনি মুসলমান হলেন? কোন ঘটনার জন্য হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন? চলুন তার কিছুটা জেনে নিই।
১৯৮৮ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সে দিলীপের এক বোনের গুরুতর অসুখ হয়। কোনো চিকিৎসাতেই কাজ হচ্ছিল না। সবাই যখন হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন তখন পরিবারের এক বন্ধুর উপদেশে তারা যান শেখ আবদুল কাদের জিলানি (বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানি রহ. নয়) নামে মুসলিম পীরের কাছে। তিনি পীর কাদরি নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন।

পিতার রোগের সময় ওই একই পীরের কাছে দিলীপ পরিবার গিয়েছিলেন। কিন্তু তখন পিতার অন্তিম সময় বলে পীর কিছু করতে পারেননি। এবার বোনের অসুখের সময় তারা দেরি করেন না। দিলীপ পরিবার যান পীর কাদরির কাছে। তার দোয়ায় অতি আশ্চর্যজনকভাবে দিলীপের বোন দ্রুত সেরে ওঠেন। পিতা ও বোনের অসুখের সময় সমাজের অবহেলা এবং তার বিপরীতে পীরের সদুপদেশ ও সাহায্য গভীরভাবে প্রভাবিত করে তরুণ দিলীপকে ধর্মান্তরিত হতে। তিনি ও তার পুরো পরিবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। দিলীপ হয়ে যান এ আর রহমান।
এখন এ আর রহমান বলেন, ইসলাম আমাকে শান্তি দিয়েছে। দিলীপ রূপে আমি একটা হীনম্মন্যতায় ভুগতাম। এ আর রহমান হয়ে আমার মনে হয় পুনর্জন্ম লাভ করেছি।

দিলীপের মা জ্যোতিষবিদ্যায় বিশ্বাসী ছিলেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তিনি তার ছেলেকে নিয়ে যান এক জ্যোতিষীর কাছে এবং অনুরোধ করেন একটি শুভ মুসলমান নাম দিতে।
দিলীপকে দেখে ওই জ্যোতিষী তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম আবদুল রহমান এবং সংক্ষেপে এ আর রহমান রাখতে উপদেশ দেন।
দিলীপের মা এতে অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, আবদুল রহমানের সংক্ষেপিত নাম তো এ রহমান হওয়া উচিত। এ আর রহমান হবে কী করে?
জ্যোতিষী উত্তর দেন, তার নাম আবদুল হলেও রহমানের আগে দু’টি আদ্যক্ষর রাখলে সে বিশ্বখ্যাত হবে। তাই শুধু (অ) নয়, এ আর (অ জ)-ই রাখতে হবে।
কস্তুরী ওরফে করিমা বেগম ঠিক তা-ই করেন। দিলীপের নাম রাখেন এ আর রহমান। পরে ইন্ডিয়ার তদানীন্তন টপ সুরকার নওশাদ আলী যিনি পশ্চিমি সঙ্গীতে পারদর্শী ছিলেন তার সংস্পর্শে যখন এ আর রহমান আসেন তখন তিনি উপদেশ দেন আবদুলটা বদলে ফেলে বিখ্যাত তবলা বাদক আল্লা রাখার (Allah Rakha) নামে এ আর রাখতে।

এভাবেই এ এস দিলীপ কুমার থেকে ওরফে আবদুল রহমান ওরফে আল্লা রাখা রহমান ওরফে এ আর রহমানের পর্যায়ক্রমিক নামান্তর ঘটে।
এসব সাফল্যের জন্য এ আর রহমান সব কৃতিত্ব দেন সৃষ্টিকর্তাকে। তিনি বলেন, আমার মা আল্লাহর কাছে যেসব প্রার্থনা করেছেন তারই ফসল আমি। আমি যা তার কারণ হলো, প্রতিদিন সচেতন ও আন্তরিকভাবে পাঁচবার নামাজ পড়ি। আল্লাহ যা চান আমি তাই হবো। আমি তা জানি। তিনি আমাকে সবই দিয়েছেন। তিনি আবার সব কিছু নিয়েও নিতে পারেন। তাঁর সিদ্ধান্ত আমি মেনে নেবো। আল্লাহই আমার সব কিছু। তাঁর বিশাল সৃষ্টিযজ্ঞের একটি অতি ছোট অংশ আমি। তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন একটি বিশেষ মিশনের জন্য। সেই মিশনটি অর্জন না করলে আমি পাপ করব। এটাই আমার একমাত্র বিশ্বাস।

এই বিভাগের আরো খবর


WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com