counter স্বামীর মৃত্যুর পর শিশুসন্তান নিয়ে মানবতার জীবন-যাপন করছেন আয়েশা

বুধবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্বামীর মৃত্যুর পর শিশুসন্তান নিয়ে মানবতার জীবন-যাপন করছেন আয়েশা

নিজস্ব প্রতিবেদক : নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার তেতুঁলিয়া ইউনিয়নের পানিয়ে গ্রামে স্বামীর মৃত্যুর পর শিশু সন্তান নিয়ে মানবতার জীবন যাপন করছেন আয়েশা সিদ্দীকা সাথী নামের এক নারী। স্বামী হারানোর সাথে সাথে যেন হারিয়ে যাচ্ছে তার সাজানো সংসার। সম্পত্তির অধিকার থেকে বিলুপ্ত করতে নানা রকম ফন্দি তৈরী করেছেন তার পাষান্ড শ্বশুর নজরুল ইসলাম। সাথীর স্বামী নাজমুল হক মারা যাই ব্রেন স্টোক করে। সন্তানের মৃত্যুতে শোক কাতর না হয়ে তার শ্বশুর নজরুল ইসলাম নতুন বিয়ে করেই পূর্ব স্ত্রীর সন্তানের সকল চিহ্ন মুছে দিতে তার শিশু নাতীসহ ছেলের বউকে তাড়ানোর চেষ্ঠা করতে থাকে। গত ঈদের সময় সাথী তার বাবার বাড়ি বেড়ানোর জন্যে যায়। সেখান থেকে স্বামীর বাড়ি এসে দেখে তার শ্বশুর আর তাকে বাড়িতে থাকতে দিবেনা বলে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন। এমনকি তার স্বামীর ভ্যারাইটি স্টোর দোকান ঘর থেকেও বঞ্চিত করতে চাই। এসময় নিরুপায় হয়ে হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হয় উপজেলার বালিশ গ্রামে তার বাবার বাড়িতে।

পাষান্ড শ্বশুরের থেকে রক্ষা পেতে ও সন্তানের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে বিষয়টির সুষ্ট সমাধান চেয়ে তেতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন সাথী। বিয়ষটি বিবেচনা করে চেয়ারম্যান তার শ্বশুর কে ইউনিয়ন পরিষদের ডেকে এনে সমাধান করার চেষ্ঠা করেন। কিন্তু তার শ্বশুর কিছুতেই তার ছেলের বউকে বাড়ি প্রবেশ করতে দিতে চাইনা। সম্পত্তির অধিকার দোকান ঘর ও আর্থিক সহযোগিতা করতেও চাইনা। ঘটনাস্থলেই তিনি ইউনিয়ন পরিষদের টেবিলে হাত দিয়ে বিকট শব্দ করে কথা বলতে শুরু করে ও হট্টগোল সৃষ্টি করে। সেখানে উপস্থিত জনতা তার কান্ড দেখে হবাক হয়ে যায়। তারা বুঝাতে চাই স্বামী হারা নারীর ঠিকানা প্রয়োজন, শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ রয়েছে। কিন্তু নজরুল ইসলাম নিজেকে পাষান্ড মানব দাবি করে বলেন, আমি পাষান মানব, আমার কারো উপরে মায়া-দয়া নাই। আমি কাউকে কিছু দিবোনা। আমি যতদিন বেচে আছি ততদিন সব কিছু আমি নিজে ভোগ দখল করে খাবো।

এসকল বিষয়ে জানতে চাইলে মৃত নাজমুল হকের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দীকা সাথী বলেন, আমি স্বামী হারিয়ে মানষিক দুশ্চিন্তায় আছি, এর মধ্যে আমার শ্বশুর সকল কিছু থেকে আমাদের বঞ্চিত করছে। আমার স্বামীর দোকানে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার সিলিন্ডার গ্যাস, জ্বালানী তেলসহ বিভিন্ন মালামাল রয়েছে। দোকান শ্বশুর জীবত অবস্থায় আমারা পারোনা বলে লিখে রাখছেন। কিন্তু তার দাপটে আমরা মালামাল গুলো পাচ্ছিনা। বিগত দোকানে মালামাল ক্রয় করার জন্যে ৩ লাখ টাকা ঋণ করা হয়েছে, এর আগেও অনেক টাকার ঋণ রয়েছে। বারবার টাকার জন্যে প্রাপকরা চাপ দিলেও আমি মেয়ে মানুষ হয়ে কিছু করে টাকা গুলো পরিশোধ করতে পারছিনা। তাছাড়া, আমার বাবার টাকায় স্বামীর জন্যে মোটরসাইকেল কিনা হয়েছিলো, তাও আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছেনা। এমনি আমার গড়া এতো দিনের সংসারের আসবারপত্র তা থেকেও আমাকে বঞ্চিত করছে। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম, শিশু সন্তান তানভীর হককে নিয়ে আমার স্বামীর বাড়ি থেকে জীবন-যাবন করতে। সন্তানকে শিক্ষিত করে বড় করতে। বর্তমানে আমি কি করবো কোন কিছুর সমাধান পাচ্ছিনা।

তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী জীবত কালে আমার শ্বশুরের প্রায় ঝগড়া করতেন। তার একমাত্র সন্তান হওয়ার পরেও তাকে আলাদা করে দেওয়া হয়। আমার স্বামী পারিবারিক কারনে মানষিক ভাবে চিন্তায় থাকতেন। অবশেষে আমার স্বামীর মৃত্যুর কিছুদিন পর তিনি নতুন বিয়ে করে আমাদের সাথে খারাপ ব্যাবহার করতে শুরু করে।

আয়েশা সিদ্দীকা সাথীর বাবা আবুল কালাম বলেন, মেয়ে আমার স্বামী হারিয়ে শ্বশুরের অত্যাচারে আমার বাড়িতে আছে। আমারো বয়স বেড়েছে, আমার অবর্তমানে আমার মেয়ে ও নাতীনের ভবিষ্যতে অন্ধকার নেমে আসবে। আমি বিষয়টির সুষ্ঠ সমাধান চাচ্ছি।

এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান বজেন্ড জানান, আমি অভিযোগ পেয়ে বিষয়টির সমাধান করার জন্যে ইউনিয়ন পরিষদে সবাইকে উপস্থিত করেছিলাম। কিন্তু তার শ্বশুর নজরুল ইসলাম আমাদের কথা শুনেননি। তবে আলোচনা সাপেক্ষে আমরা দ্রুত সমাধান করার ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এই বিভাগের আরো খবর