counter ধৈর্যশীলদের সঙ্গে মহান আল্লাহ অবশ্যই থাকেন।

মঙ্গলবার, ১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ধৈর্যশীলদের সঙ্গে মহান আল্লাহ অবশ্যই থাকেন।

প্রতিটি জীবকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে। জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে মৃত্যুর মাধ্যমে। জন্ম ও মৃত্যুর অন্তর্বর্তী সময়টুকুর নামই জীবন। তবে মানুষের জীবনের এই গতি সবসময় অনুকূল থাকে না। আবার জীবনপ্রবাহ থেমেও থাকে না। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব ছাড়া জীবন হতেই পারে না। মূলতঃ এসবের সংমিশ্রণ জীবনটাকে উপভোগ্য করে।

মানুষের জীবন সামান্য ক’দিনের হলেও অমূল্য। হয়তো এ জন্য পথচলার হোঁচট আর ব্যাথাগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়- জীবনের মূল্য। শিক্ষা দেয়- আঘাতগুলোকে শক্তিতে পরিণত করে ত্যাগী ও উদ্যমী হতে। জগতে যারা বড় হয়েছেন, তাদের প্রায় সকলেই জন্মের পর থেকে বড় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দুঃখ-কষ্ট সঙ্গে নিয়েই বড় হয়েছেন। অতঃপর সুখ-সমৃদ্ধিতে অবগাহন করেছেন। আজন্ম দুধ-কলায় লালিত-পালিতরা জগতে সম্মান-খ্যাতি অর্জন করেছেন- এরুপ মানুষের সংখ্যা ধরণীতে তেমন একটা নেই।

আমাদের জীবনঘুড়ির সুতো আমাদের কাছে নয়, মহান প্রভুর হাতে। আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেন। সেসব ক্ষেত্রে ধৈর্যহারা না হয়ে সবরের সঙ্গে ঈমান ও তাকদিরের ওপর অটল-অবিচল থেকে দৃঢ়পদে অগ্রসর হওয়াই মানুষের কাজ ও কর্তব্য। দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ, ব্যাথা-বেদনা এসবের সমন্বয়েই জীবন। যারা এগুলোকে আল্লাহর ইচ্ছা মনে করে ধৈর্যসহ টিকে থাকতে পারেন, তারাই সফল হন।

ধৈর্য অনেক কঠিন। তাই তার ফলও বেশ সুস্বাদু, অসাধারণ। মহান প্রভুর ভাষায়- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কথা, ‘ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপকতর কল্যাণ কাউকে দেওয়া হয়নি।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম সবরকারীদের জন্য এর চেয়ে উত্তম প্রতিদান, মূল্যবান পুরস্কার, আশার বাণী আর কী হতে পারে?

যে পুরস্কার প্রসঙ্গে কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন।’

-সূরা বাকারা

কোরআনে কারিমের অন্যত্র আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করবো কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে।

এই বিভাগের আরো খবর