counter করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসকের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

মঙ্গলবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসকের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

মহামারী করোনা ভাইরাসে বেসামাল বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। এতে মৃ্ত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭০৪ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজার ৪৬৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। যারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের কোনো সুযোগ নেই। অনেকে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ফোনে কান্নাকাটি করছেন। কেউ আবার মৃত্যুর সময় কাউকেই পাশে পাচ্ছেন না।

আইসিইউতে থাকা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার হৃদয়বিদারক বর্ণনা দিয়েছেন নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাংগন মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড বেলভ্যুর চিকিৎসক ড. কামিনী দ্যুবে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা খুব কঠিন সময় পার করছেন। তারা বেঁচে থাকার লড়াই করছেন প্রতি মুুহূর্তে। কিন্তু প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিবারের কারোর সঙ্গে তাদেরকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না।

ড. দ্যুবে বলেন, প্রায়ই এমন দেখতে পাচ্ছি যে, একজন করোনা আক্রান্ত রোগী মৃত্যুশয্যায়, তিনি মারা যাচ্ছেন কিন্তু তার পাশে কেউ নেই। যাদেরকে আইসিইউতে রাখা হচ্ছে, তাদের স্বজনদের ভোগান্তি দেখে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীরা তাদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ফোনে কান্নাকাটি করছেন। তাদের চোখের পানি দেখা খুবই বেদনাদায়ক। আবার এমন অনেকেই আছেন যারা মৃত্যুর সময় পরিবারের কাউকেই পাশে পাচ্ছেন না। এটা খুবই মর্মান্তিক।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা যারা সর্বাত্মকভাবে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন, তারা দেখছেন, মরণাপন্ন রোগীরা কীভাবে হাসপাতালে আসছেন। আমার অভিজ্ঞতায় এর আগে এমন অবস্থা কখনও দেখিনি। ড. দ্যুবে বলেন, আমি আমার জীবনে কখনও এমন শারীরিক ও মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়িনি। এত গভীর দুঃখ ও অশান্তিও অনুভব করিনি কখনও।

যখন প্রাথমিকভাবে কারও শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তখন তিনি তিনি ধীরে ধীরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এটি নিউমোনিয়া এবং কারও কারও জন্য অন্যান্য গুরুতর অসুস্থতাসহ মৃত্যু ডেকে আনছে। বয়স্কদের জন্য করোনাভাইরাস আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

নিউ ইয়র্কের হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চাপ থাকায় এ প্রভাব ড. দ্যুবের মতো চিকিৎসকদের ওপর পড়ছে। ড. দ্যুবের মতো অন্যান্য চিকিৎসকরাও তাদের নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চিন্তিত।

দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাদের নিজের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম হাসপাতালের কর্মীদের দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। ড. কামিনী দ্যুবে বলেন, শহীদ হওয়ার জন্য আমরা চিকিৎসার পেশায় আসিনি। আমরা একটি গুরুতর সংকটে আছি এবং সুরক্ষা পাওয়া আমাদের প্রাপ্য। আমরা যুদ্ধের ময়দানে নেই। আমরা যুদ্ধের অঞ্চলে নেই। সাধারণ মানুষ বিশেষজ্ঞদের কথা শুনলে এবং হোম কোয়ারেন্টানে থেকে করোনার বিস্তার কমিয়ে আনবে বলে ড. কামিনী দ্যুবের আশা।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে নিউইয়র্কে, ৪৪ হাজার ৮১০ জন। এরপর নিউ জার্সিতে ৮ হাজার ৮২৫। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ হাজার ৪৫৯, মিশিগানে ৩ হাজার ৬৫৭, ম্যাসাচুসেটে ৩ হাজার ২৪০, ওয়াশিংটনে ৩ হাজার ২০৭ ও ইলিনয়িসে ৩ হাজার ২৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর